মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলে কেক ও পার্টি স্প্রে ক্রয় করে শ্রেণিকক্ষে কেক কেটে শিক্ষক দিবস উদ্যাপন করেন এক সহকারী শিক্ষক। এ সময় চোখে স্প্রে ঢুকে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও)।
গত ৫ অক্টোবর ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ইত্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর নাম নুসরাত জাহান। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম এ আয়োজন করেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাম্মী আক্তার বলেন, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ৫ অক্টোবর বিদ্যালয়ে কোনো আয়োজন ছিল না। কিন্তু সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম অনুমতি ছাড়াই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার ১৭৫ টাকা সংগ্রহ করেন। এরপর অন্য শিক্ষকদের না জানিয়ে বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদাভাবে প্রতি শ্রেণিতে কেক কাটেন তিনি। এ সময় পার্টি স্প্রে ছিটানো হলে তা তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের চোখে লাগে।
প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীর অভিভাবক বিষয়টি আমাকে জানান। শিক্ষার্থীর চোখ ও ত্বকের অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকলে বিষয়টি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়। পরে তিনি তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলামের দাবি, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে টাকা তুলে তাঁকে দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি পাঁচটি কেক এনে টিফিনের সময়ে ওদের নিয়ে কেক কেটে শিক্ষক দিবস পালন করেছি।’
পার্টি স্প্রে সম্পর্কে সাইফুল ইসলাম বলেন, স্প্রেটি শিক্ষার্থীদের কেউ কিনেছিল। তারা স্প্রে ছোড়ার সময় তা নুসরাতের চোখে ঢোকে। প্রধান শিক্ষকের অনুমতি না নিয়ে আয়োজন করাকে ভুল স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এ কারণে আমাকে শাস্তি পেতে হবে।’
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর বাবা ইত্যা গ্রামের হযরত আলী জানান, তাঁর মেয়ের চোখের চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে চোখের অবস্থা ভালো দিকে।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নূর-এ-এলাহী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোনে ঘটনাটি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর বাবাও অভিযোগ করেছেন ফোনে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে তলব করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। এরপর তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।’
নূর-এ-এলাহী আরও বলেন, জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হবে, যাতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

