ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, চলমান নির্মাণকাজ এবং বিদ্যমান বিভিন্ন ইস্যু পর্যালোচনার লক্ষ্যে আজ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল বিল্ডিং (সিসিবি)-এ প্রকল্পের মাসিক অগ্রগতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
সভায় সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেড (FDEE) এবং প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জনাব মো. গোলাম মর্তুজা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সভায় তুলে ধরেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, চলমান কার্যক্রম এবং বিদ্যমান বিভিন্ন ইস্যু ও সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করেন।
সভায় সেতু বিভাগের সচিব জানান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি পান্থকুঞ্জ পার্ক এলাকায় অবস্থিত সোনারগাঁও EN-2 র্যাম্পের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে র্যাম্পটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার এবং ETC চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রকল্পের ইউটিলিটি অপসারণ ও প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে সচিব সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে এ কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের রুট এলাইনমেন্টের অভ্যন্তরে ইউটিলিটি প্রতিস্থাপন/অপসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেঃ কর্নেল শেখ আহমেদ শাফি এ প্রেক্ষিতে জানান যে, ডিপিডিসি, ঢাকা ওয়াসা এবং বিটিসিএল সহ সংশ্লিষ্ট ইউটিলিটি সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। ব্যয় সাশ্রয় করে ইউটিলিটি স্থানান্তর/প্রতিস্থাপনের জন্য ২৪ ইসিবি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সচিব, সেতু বিভাগ এ সংক্রান্ত অনিষ্পন্ন বিষয়সমূহ দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার অংশগ্রহণে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের জন্যও নির্দেশনা প্রদান করেন।
এছাড়া, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে নির্বিঘ্ন ও আধুনিক টোল আদায় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে Unified Electronic Toll Collection (ETC) System চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়।
প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান দ্রুত নিশ্চিত করার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান FDEE-কে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রকল্পের অর্থসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) জনাব আলতাফ হোসেন সেখ প্রকল্পের বিদ্যমান অনিষ্পন্ন ইস্যুগুলো দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন, সোনারগাঁও EN-2 র্যাম্পের নির্মাণকাজে আরও গতি এনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
এছাড়াও সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনার আলোকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের সম্ভাব্যতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভার শেষ পর্যায়ে সেতু বিভাগের সচিব প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা ও গুণগত মান বজায় রেখে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত নিরসনে সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে নিবিড় সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
