পরবর্তী সময়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় বিশেষ প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে তাকে হাজির করা হয়।
নতুন একটি মুচলেকায় (পিস বন্ড) সই করার পর শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্ত হলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান অভিজিৎ দীপকে। গতকাল শনিবার দিলীø পুলিশ তাকে মুক্তি দেয়। ইন্ডিয়া টুডে, এক্স, উইয়ন নিউজ, এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাউমস।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। দিল্লীর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে দলের ঘোষিত ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ঝান্ডেওয়ালানে নিজ বাসভবনের কাছ থেকে অভিজিৎ দীপকে আটক করেছিল পুলিশ। গত ১০ অক্টোবর দিল্লীর বিমানবন্দরে আটক হয়ে তিনি এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার একটি অঙ্গীকারনামায় সই করেছিলেন। পুলিশ দাবি করে, শুক্রবারের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করে তিনি সেই মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেছেন। এরপর শনিবার সকালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পরবর্তী সময়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় বিশেষ প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে তাকে হাজির করা হয়। সেখানে সিজিপির আইনি বিষয়াবলির প্রধান রত্না সিং এই গ্রেফতারির চরম বিরোধিতা করেন এবং এটিকে মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে দাবি করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর আহ্বান জানানো কীভাবে অপরাধ হতে পারে? শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষ জামিন দিলে নতুন একটি মুচলেকায় সই করে মুক্তি পান অভিজিৎ।
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ কর্মসূচির (এসআইআর) বিরুদ্ধে দিলীøর বিভিন্ন স্থানে বিরোধীদের বিক্ষোভ চলছিল। সেন্ট্রাল দিল্লী এলাকায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা সেন্ট্রাল পার্কের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ অভিযান চালায়। এই ঘটনায় অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাসহ প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। নেহা বোরাকে শনিবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিজিপির নেতাকর্মী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ বেশ কয়েকজন এখনো পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
ভারত সফরে রুবিওকে হস্তক্ষেপের আহ্বান
ভারতের দিলীøতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি) সংক্রান্ত ছাত্র বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’, অন্যায্য আটক ও দমনপীড়নের বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ছয়জন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা। এদের মধ্যে অন্যতম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা প্রমিলা জয়পাল। আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন মার্কো রুবিও। সফরকালে মুম্বাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে দেওয়া এক পোস্টে জয়পাল লেখেন, বিশ্বের বৃহত্তম দুটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে সভা-সমাবেশ ও বাকস্বাধীনতার অধিকার রক্ষা ও উৎসাহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের।
তিনি আরও লেখেন, ‘আগামী দিনগুলোতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় এই স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে আমি ও আইনপ্রণেতা ম্যাকগভার্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে অনুরোধ জানাচ্ছি’।
একই সাথে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের ভারতীয় কনস্যুলেটগুলোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন প্রমিলা জয়পাল। ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী আন্দোলনকারীদের ওপর নজরদারি চালানোর জন্য এসব কূটনৈতিক মিশন আলোকচিত্রী বা ফটোগ্রাফার মোতায়েন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এক বিবৃতিতে জয়পাল বলেন, ‘দিল্লী এবং ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়ন, অন্যায়ভাবে আটক এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ধরণ নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি লিখছি’।
প্রমিলা জয়পাল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা এবারই প্রথম করলেন না। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ওই পদক্ষেপে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন বলে দাবি করেছিলেন এই মার্কিন আইনপ্রণেতা।
তবে জয়পালের এসব অভিযোগ ও মন্তব্য জোরদারভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের মতে, মার্কিন আইনপ্রণেতার এই মন্তব্য আরেকটি গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।
মানহানির মামলায় ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
২০১৮ সালে দায়ের করা মানহানির একটি মামলায় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে দিলীøর একটি আদালত। বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি সেলের সদস্য বিকাশ পান্ডের দায়ের করা আট বছরের পুরোনো একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় এই পরোয়ানা জারি করা হয়।
এই মামলায় সমন জারি করতে গিয়ে আদালতের প্রতিনিধি দেখেন, রাঠীর বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। ফলে সমনটি জারি করা সম্ভব হয় নি। সাকেত আদালত শনিবার এই নির্দেশ দেয়। আদালত এখন ৩১ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল জৈন এই পরোয়ানা জারি করেন।
বিকাশ পান্ডে নামের এক ব্যক্তি এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তার অভিযোগ, ধ্রুব রাঠী নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও আপলোড করে তার মানহানি করেছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে আদালত রাঠীর কাছে সরাসরি সমন পাঠানোর অনুমতি দিয়েছিল, যেখানে অভিযোগকারীকে সমন বহনকারীর সঙ্গে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সব পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও আদালতকে জানানো হয়, রাঠীর বাড়ি তালাবদ্ধ থাকায় নোটিশটি দেওয়া সম্ভব হয় নি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছে।
ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভে যোগ দিল থালাপতি বিজয়ের
টিভিকে
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে চেন্নাইতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)।
বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’তে ৩ অক্টোবর যোগ দেওয়ার পর সিইসিবিরোধী কোনো বিক্ষোভে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দলের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।
ভোটার তালিকায় নানা অনিয়ম এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এ ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর ও তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটির (টিএনসিসি) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও বিক্ষোভ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে চেন্নাইয়ের এ কর্মসূচিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক সাতটি দলের নেতারা অংশ নেন।
রাহুল-বিজয় বৈঠক
১০ অক্টোবর চেন্নাইতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়ের একটি বৈঠক হয়। বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন পর দলটি কংগ্রেসের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিল।
কংগ্রেসের নেতৃত্বের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ ফার্স্ট’ জানিয়েছে, ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বিভিন্ন আলোচনা, প্রচার ও বিক্ষোভে অংশ নিতে বিজয় এবং তাঁর দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল।
