রাজনৈতিক সম্পর্ক ও বোঝাপড়া থাকলেও কাউকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও নয়। নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, রাজনীতির জগতে তিনি কাউকেই বিশ্বাস করেন না।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার বক্তব্য নতুন করে দুই নেতার রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে আলোচনা তৈরি করেছে।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে খুব ভালো বলে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সহযোগিতারও প্রশংসা করেছেন তিনি। ফলে তার মন্তব্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সরাসরি বিরূপ মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায় না। বরং রাজনীতিতে কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস না করার অবস্থানই তুলে ধরেছেন তিনি।
তবে ইসরায়েলের নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি ট্রাম্প। ইসরায়েলের কর্মকর্তারা তাকে প্রচারে যুক্ত করতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু নিজে অংশ নেবেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হলে ৯৯ শতাংশ মানুষ তাকে ভোট দিতেন। তবে এটি তার ব্যক্তিগত দাবি, কোনো জনমত জরিপের ফল নয়।
ইসরায়েলের রাজনীতিতে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। নেতানিয়াহুর প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য সমর্থন নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার নিশ্চয়তা মেলেনি।
একদিকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা বলেছেন ট্রাম্প, অন্যদিকে রাজনৈতিক আস্থার প্রশ্নে নিজের অবস্থান আলাদা রেখেছেন। একই সঙ্গে ইরান ইস্যুতে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার প্রশংসাও করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্পের উত্তর স্পষ্ট হলেও তা দুই নেতার সম্পর্কে ভাঙনের প্রমাণ নয়। ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
