কাজীপুর উপজেলায় যমুনা ও ইছামতি নদীতে জেগে ওঠা চরে ও সমতলে আগাম শীতকালীন সবজি (খরিপ-২) চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। একটি পৌরসভা ও ১২ টি ইউনিয়নজুড়ে প্রায় সব গ্রামে এখন আগাম জাতের সবজি চাষের ধুম পড়েছে। বেশি লাভের আশায় চাষিরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।
সরেজমিনে যমুনা, ইছামতি নদীর চর ও বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউ নতুন চারা রোপণ করছেন, আবার কেউবা আগে লাগানো ছোট সবজির চারাগুলোর নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত। বাজারে নতুন সবজির চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো থাকে। তাই আগাম চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি।
কৃষকরা লালশাক, মুলা, ফুলকপি, পাতা কপি, ঢ্যাঁড়শ, পুঁইশাক টমেটো, লাউ, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন জাতের সবজি আবাদ করছেন। ইতোমধ্যে অনেকে আগাম জাতের সবজি বাজারে তুলেছেন এবং ভালো দামও পাচ্ছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৪৫২ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের জন্য লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৫২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। উপজেলায় সবজি চাষিদের অন্যতম একজন, পাঁচগাছি গ্রামের বাদশা মিয়া তিনি বলেন, সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। তার ওপর শ্রমিকের পারিশ্রমিক ও ছাড়া এত খরচ করে চাষাবাদ করে আগের মতো লাভ হয় না। এই কারণে আমি এখন আগের মতো বেশি জমি নিয়ে চাষ করেছি না।
এ বিষয়ে কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, এ বছর আগাম শীতকালীন (খরিপ-২) সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ভালো। কৃষকরা এখন লাভজনক ফসল চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।
কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছি, যাতে তারা সুষম সার ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়াতে পারেন। আগাম সবজি চাষ করে তারা যেন লাভবান হতে পারেন, সে লক্ষ্যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন।
