ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ নিয়ে ‘কয়েকজন বিদেশি নেতার’ মন্তব্য ‘বোকামিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করে এর কঠোর সমালোচনা করেছেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ‘ফ্রান্সে চলমান অস্থিরতার পেছনে অভিবাসীদের ভূমিকা রয়েছে’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবির পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমন সমালোচনা করলেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলো সফরের সময় ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘কেউ কেউ দাবি করেছেন, অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের বিশাল দল আমাদের দেশে আক্রমণ করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, যারা এখন আমাদের দেশ সম্পর্কে খারাপ কথা বলছেন, তারা আমাদের দেশকে ভালোবাসেন না। আর এসব মানুষ আমাকে বিরক্ত করেন।’
সোমবার ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, ফ্রান্সকে ‘অভিবাসী, জিহাদি ও কমিউনিস্টরা দখল করছে, লুটপাট করছে এবং পুড়িয়ে ধ্বংস করছে। তারা খ্রিষ্টধর্মকে’ এবং ‘পশ্চিমা সভ্যতাকেই’ ঘৃণা করে।
গত সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরে তা দেশজুড়ে সহিংসতা ও দাঙ্গায় রূপ নেয়। শুধু গত সপ্তাহান্তেই দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে চলা দাঙ্গার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে চাপের মুখে পড়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। শনিবার আরও বিক্ষোভের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করেছে এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বুধবার অস্থিরতার পেছনে বিদেশি কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততার প্রমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে বিদেশি হস্তক্ষেপের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ নেই।’
তবে ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, ‘তথ্য নিয়ে বিদেশি পক্ষগুলোর কারসাজি হয়েছে, যার ফলে বিদেশি নেতাসহ অনেকের কাছ থেকে অগ্রহণযোগ্য ও বোকামিপূর্ণ মন্তব্য এসেছে।’
ট্রাম্পের পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও অস্থিরতার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে পশ্চিমা উদারপন্থীরা ফ্রান্স ও অন্যান্য দেশে তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের নিয়ে এসেছেন। একীভূত হওয়া এবং সামঞ্জস্যের মৌলিক প্রশ্নগুলো তারা উপেক্ষা করেছেন।’
মঙ্গলবার ওভাল অফিসে ভ্যান্সের মন্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শিক্ষা বা জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিক্ষোভ হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘এটি শিক্ষা নিয়ে নয়। এটি অভিবাসন নিয়ে। এটি এমন অবৈধ লোকজনের আসা নিয়ে, যারা মূলত ফ্রান্সকে ঘৃণা করে। তারা দেশটির মানুষকে ঘৃণা করে। তারা সবকিছুকে ঘৃণা করে।’
বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ কোনো নির্দিষ্ট বিদেশি নেতার নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি ইউরোপের পাশাপাশি ‘আটলান্টিকের অপর পাড়ের’ নেতাদের বিরুদ্ধেও ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের জন্য শৃঙ্খলা, সম্মান ও অগ্রগতি চাই। কিন্তু মানুষকে এমন কথা বলা চলবে না, যা একেবারেই সত্য নয়।’
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বুধবার সৌদি আরবে আকস্মিক সফরে গিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এরপর তিনি প্যারিসের উদ্দেশে রওনা হন বলে জানিয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসি প্রাসাদ।
