সন্তানের জন্মের পর মায়ের জীবনেই কেন সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আসবে? সন্তানের দেখাশোনা থেকে শুরু করে সংসার সামলানো, নিজের কেরিয়ারের সঙ্গে সমঝোতা করার দায়িত্বও কেন মূলত মায়ের উপরেই বর্তায়? সমাজের এই চেনা ধারণা নিয়েই এবার সরব বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সন্তানকে বড় করে তোলার দায়িত্ব মা-বাবা দু’জনেরই। তা হলে কেন মাকেই সন্তানের প্রধান অভিভাবক হিসেবে ধরে নেওয়া হবে? কেন বাবার ভূমিকা থাকবে তুলনায় গৌণ?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাতৃত্ব, সন্তান প্রতিপালন এবং নারী-পুরুষের সমান দায়িত্ব নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, সন্তান জন্মের পর মায়ের জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তন আসবে, অথচ বাবা আগের মতোই নিজের জীবন কাটাবেন—সমাজের এই মানসিকতা বদলানো প্রয়োজন। পরিণীতির মতে, সন্তানকে পৃথিবীতে আনার সিদ্ধান্ত দু’জনের হলে তার দায়িত্বও দু’জনকেই ভাগ করে নিতে হবে।
সন্তানের খাওয়াদাওয়া, ঘুম, অসুস্থতা কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনের দিকে নজর রাখার দায়িত্ব মূলত মায়ের উপরেই বর্তায়। অন্যদিকে, বাবার অংশগ্রহণকে অনেক সময় অতিরিক্ত সাহায্য হিসেবেই দেখা হয়। পরিণীতির বক্তব্য, এই ধারণা থেকেই বেরিয়ে আসতে হবে।
অভিনেত্রীর মতে, এই সময়ে বাবার দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার দিকে নজর রাখা, সন্তানের দেখাশোনায় অংশ নেওয়া এবং সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে বাবাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। শুধু মা বলেই সন্তানকে সামলানোর সমস্ত দায়িত্ব তাঁর উপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
পরিণীতির মতে, প্রত্যেক পরিবারের পরিস্থিতি এক নয়। কোনও পরিবারে আর্থিক কারণে একজনকে বেশি সময় কাজ করতে হতে পারে। আবার কোনও পরিবারে একজন কেরিয়ারে মনোযোগ দিলে অন্যজন সন্তানের দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে পারেন। এই ব্যবস্থাগুলির কোনওটিই ভুল নয়, যদি সিদ্ধান্তটি দু’জনের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।
তবে অভিনেত্রীর আপত্তি সেই সামাজিক প্রত্যাশায়, যেখানে কোনও আলোচনা ছাড়াই ধরে নেওয়া হয় যে সন্তানের জন্য মাকেই নিজের কেরিয়ার, ব্যক্তিগত সময় এবং স্বাধীনতার সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে। মাতৃত্বের পর অভিনয়জগতে ফিরেছেন পরিণীতি। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য তাই শুধু সন্তান প্রতিপালন নয়, কর্মজীবী মায়েদের কেরিয়ার এবং ব্যক্তিগত পরিচয় বজায় রাখার প্রসঙ্গও সামনে এনেছে।
