রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হতাহত ২৬ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি এবং আহত ২৪ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহতরা হলেন বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মদ ও কুমিল্লার মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। তার বৈধ কাজের অনুমতিপত্রও ছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে বাংলাদেশ থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন।
অপরজন মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামে। তার বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মা জাহানারা বেগম। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন নাসরুল্লাহ।
এদিকে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। আহতদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
হামলায় আহত তিন বাংলাদেশি বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তারা হলেন হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক।
হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তার বাবা ইসহাক এবং মা কমলা বেগম। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তার বাবা কাজী জয়নাল মিয়া এবং মা শিউলি বেগম। তিনিও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করার সময় হামলায় আহত হন তিনি।
অন্যদিকে, মো. ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। তিনি রিয়াদ থেকে জেদ্দায় নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন।
সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা হাসপাতালে গিয়ে আহত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। আহত সবার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
