কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত এবং পরে রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টের গুদামে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি, তীব্র বাতাস ও কাঠের অবকাঠামো আগুনের ভয়াবহতা বাড়িয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গত ১৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এত প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টের নিচতলায় থাকা একটি ফ্রিজে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রিসোর্টের গুদামে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ মজুত ছিল। এর সঙ্গে তীব্র বাতাস এবং কাঠের অবকাঠামোর কারণে আগুন দ্রুত বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। তবে গুদামে ঠিক কী ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার উপপরিদর্শক রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই করে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে আরও সময় প্রয়োজন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, আগুনের সূত্রপাত, গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ এবং দাহ্য পদার্থের ভূমিকা আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। পাশাপাশি রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং গুদামে সংরক্ষিত উপকরণ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ প্রয়োজন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে প্রাথমিক ধারণাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি ও রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর সুলতান মিয়া এখনো পলাতক রয়েছেন। রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদসহ অন্যরাও আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।
এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের সাত দিন পরও আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত না হওয়া এবং রিসোর্টের মালিকদের পলাতক থাকার বিষয়টি তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। একই সঙ্গে গুদামে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ রাখার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দশ পর্যটকের প্রাণহানির ঘটনায় দায় নির্ধারণ, অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো অবহেলা ছিল কি না তা যাচাই এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
-20261023050057.jpg&w=1440&q=75)