গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্যাসের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মা-বাবার মৃত্যুর পর এবার তাঁদের একমাত্র মেয়ে তানিশা আক্তারও (১৬) মারা গেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হলো। নিহতরা ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাসিন্দা।
নিহতরা হলেন ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লাল চাঁন মিয়া (৬০), তাঁর স্ত্রী নাসিমা খাতুন (৫০) এবং তাঁদের একমাত্র মেয়ে তানিশা আক্তার (১৬)।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান মা-বাবার পর মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে টঙ্গীর মুদাফা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে লাল চাঁন মিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম ও মেয়ে তানিশা আক্তার দগ্ধ হন। পরে প্রতিবেশীরা তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।
ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত আটটার দিকে লাল চাঁন মিয়া ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগমের মৃত্যু হয়। তাঁদের মৃত্যুর দুদিন পর শুক্রবার সকালে মারা যায় মেয়ে তানিশাও। একে একে পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, আগুনে লাল চাঁন মিয়ার শরীরের ৯৫ শতাংশ, তানিশার ৮৬ শতাংশ এবং নাসিমার ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শরীরের অধিকাংশ পুড়ে যাওয়ায় তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক ছিল।
নিহত তানিশার মামা লাল চাঁন মিয়ার ভাগিনা সাদিকুল জানান, তাঁর মামা পরিবার নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকার মুদাফা মাস্টারপাড়ায় ফখরুল ইসলামের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।
তিনি বলেন, গত বুধবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুনে দগ্ধ হন লাল চাঁন মিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসিমা ও মেয়ে তানিশা। পরে ওই দিন রাতেই তানিশার বাবা-মায়ের মৃত্যু হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে তাঁদের দাফন করা হয়।
সাদিকুল আরও বলেন, মা-বাবার মৃত্যুর দুদিন পর তানিশাও মারা গেছে। তার মরদেহ নিজ বাড়িতে আনা হয়েছে। মা-বাবার কবরের পাশেই তানিশাকে দাফন করা হবে।
একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
