শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর ২৫৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত ২ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপের গুরুত্ব, ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। সিসিটিভি ও পুলিশের শরীরে থাকা ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি ও আর্চওয়ে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপের আশপাশে নিয়মিত টহল এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি ও বস্তুর ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, ডগ স্কোয়াড ও ক্রাইম সিন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, রাজধানীর নয়টি বড় পূজামণ্ডপে পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে ৫০ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যান্য মণ্ডপেও শ্রেণিভেদে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সব মণ্ডপের সিসিটিভি ক্যামেরা ডিএমপির নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। সেখান থেকে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিসর্জন শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে শেষ হবে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশনার বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই। তবে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো ঠেকাতে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করতে এবং সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।
