করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৈরি PM CARES তহবিলে বড়সড় দুর্নীতি হয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ বিরোধীদের। ওই তহবিলের অডিট এবং দুর্নীতির তদন্তের দাবিতে লোকপালের কাছে মামলাও দায়ের হয়েছিল। কিন্তু লোকপাল স্পষ্ট করে দিল, যে অভিযোগ ওই তহবিলের তদন্তের দাবি করা হচ্ছে, সেই অভিযোগের স্বপক্ষে প্রাথমিক কোনও প্রমাণও দেখাতে পারেননি অভিযোগকারীরা।
গত আগস্টে লোকপালের কাছে পিএম কেয়ার্স নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি ছিল, সরকারের একেবারে শীর্ষস্তর থেকে পিএম কেয়ার্সে অর্থ তছরূপ হচ্ছে। কিন্তু সেই অভিযোগের স্বপক্ষে যুক্তিগ্রাহ্য কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি আবেদনকারী। লোকপাল সাফ জানিয়ে দিল, উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় লোকপালের পক্ষে তদন্ত করা সম্ভব নয়। তবে আবেদনকারী চাইলে নতুন করে প্রমাণ-সহ ফের আবেদন করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, করোনা আবহে ২০২০ সালের মার্চ মাসে পিএম কেয়ার তহবিল গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । সেই সময় প্রধানমন্ত্রী বার্তা দেন, কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এই তহবিল তৈরি করা হচ্ছে। তহবিলের অর্থে বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করা হবে। এর পর গোটা দেশের মানুষ পিএম কেয়ার ফান্ডে সাধ্যমতো সাহায্য শুরু করেন। দেশ-বিদেশের নাগরিক, বিভিন্ন সংস্থার তরফে প্রধানমন্ত্রীর এই তহবিলে টাকা জমাও পড়ে। দিনে দিনে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা পড়ে বলে জানা যায়। পরে সেই টাকা ব্যাঙ্কে বিনিয়োগও করে সরকার।
৮ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৈরি এই করোনা ত্রাণ তহবিলে এই মুহূর্তে এই বিশাল অঙ্কের অর্থই জমা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পিএম কেয়ার্সে যা অর্থ জমা পড়েছিল সেটার একটা বড় অংশ বিভিন্ন ত্রাণের ক্ষেত্রে খরচ হয়েছে। যে টাকা অবশিষ্ট ছিল সেটার প্রায় ৯৩ শতাংশ ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা হয়েছিল। বাকি সামান্য কিছু টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্কে সেভিংস অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত রাখা হয়। ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সব মিলিয়ে ওই তহবিলে জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিটে রয়েছে।
