প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকস্মিক পরিদর্শন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগকে আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরও সুবিবেচক ও সক্রিয় হবেন। পরিদর্শনের দিনের তৎপরতা যেন প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
তিনি বলেন, সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি আবাসন থেকে শুরু করে মানুষের চলাচলের ফুটপাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে গিয়ে অব্যবস্থাপনা দেখেছেন তিনি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের কাছে জবাব চেয়েছেন এবং সমস্যা সমাধানে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এ কর্মতৎপরতা আশাব্যঞ্জক এবং মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, শিশু হাসপাতালে নিজের কক্ষে একজন চিকিৎসকের ধূমপানের ঘটনা দায়িত্ববোধের চরম হঠকারিতার উদাহরণ। যেখানে শিশুদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, সেখানে এমন আচরণ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা উন্নয়নে সাত দিন এবং আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কারে দুই সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়াও সংশ্লিষ্টদের জন্য স্পষ্ট বার্তা।
মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, দায়িত্বে থাকা পদস্থ ব্যক্তিরা নিজেদের পদ ও মর্যাদা রক্ষা, বাড়ি-গাড়ির যত্ন এবং পোশাক-পরিচ্ছদ পরিপাটি রাখার বিষয়ে সচেতন থাকেন। একইভাবে তাদের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও যত্নবান হওয়া কি খুব বেশি কিছু চাওয়া? কর্মকর্তাদের সুসজ্জিত অফিসকক্ষের বাইরেও একটি জগৎ রয়েছে। সেখানে কর্মীদের কাজের পরিবেশ কেমন, সেবাপ্রার্থীরা কোথায় বসেন এবং সাধারণ শৌচাগারগুলো পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারযোগ্য কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা খুব কঠিন হওয়ার কথা নয়।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি মানবিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পথের অসহায় কুকুর-বিড়ালকে আঘাত না করা এবং সম্ভব হলে তাদের খাবার ও পানি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের পাশাপাশি প্রাণীর প্রতি মমতাশীল একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার এ আহ্বানও প্রশংসনীয়। মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের পাশাপাশি অসহায় প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতাও যেন আমাদের আচরণে প্রতিফলিত হয়।
সবশেষে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরও সুবিবেচক ও সক্রিয় করে তুলবে। সংশ্লিষ্ট সবার কাছে পরিদর্শনের দিনের তৎপরতা যেন প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়।
এমএমটি
-20261018040216.jpg&w=1440&q=75)