দেয়ালে সাঁটানো একটি পোস্টার কখনো চাকরির খবর দেয়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায়, আবার কখনো রাজনৈতিক প্রচার কিংবা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি তুলে ধরে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, বাজার, অলিগলি ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কাগজের পোস্টার এখনো পরিচিত যোগাযোগমাধ্যম। কিন্তু প্রশ্ন হলো, হাতে হাতে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের এই যুগে দেয়ালে কাগজের পোস্টারের ব্যবহার কতটা প্রয়োজনীয়? যেখানে সহজ বিকল্প রয়েছে, সেখানে প্রতিনিয়ত নতুন পোস্টার ছাপানো, দেয়ালে লাগানো এবং কিছুদিন পর সেগুলো আবর্জনায় পরিণত হতে দেওয়া কতটা যুক্তিসংগত?
পোস্টারের উপযোগিতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে প্রয়োজন, অভ্যাস ও অপচয়ের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থায় কাগজের পোস্টারকে পুরোপুরি বাতিল না করে বরং এর ব্যবহারকে প্রয়োজনভিত্তিক, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব করে তোলাই সময়ের দাবি।
যোগাযোগের সহজ মাধ্যম, নাকি পুরোনো অভ্যাস?
কাগজের পোস্টারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি দেখতে ইন্টারনেট সংযোগ, স্মার্টফোন কিংবা কোনো ডিজিটাল দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। পথচারী, দোকানদার, শিক্ষার্থী কিংবা স্থানীয় বাসিন্দা সহজেই একটি পোস্টার থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারেন। বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেটের সীমাবদ্ধতা থাকা এলাকাতেও এটি কার্যকর। স্থানীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, রক্তদাতা খোঁজার ঘোষণা, জরুরি জনসচেতনতামূলক বার্তা কিংবা কোনো এলাকার অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানাতে পোস্টার এখনো ভূমিকা রাখতে পারে।
কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন প্রয়োজনের চেয়ে প্রচার, তথ্যের চেয়ে প্রদর্শন এবং কার্যকারিতার চেয়ে অভ্যাস বেশি গুরুত্ব পায়। একটি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরও দেয়ালে মাসের পর মাস পোস্টার ঝুলে থাকে। নির্বাচনী প্রচার, কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় একই দেয়ালে একের পর এক পোস্টার লাগানো হয়। কোথাও পুরোনো পোস্টারের ওপর নতুন পোস্টার সাঁটানো হয়, কোথাও দেয়ালের রং ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়, আবার কোথাও পোস্টার ছিঁড়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকে।
এখানে মূল প্রশ্ন পোস্টার থাকবে কি থাকবে না, তা নয়। বরং কোন তথ্য প্রচারের জন্য পোস্টার অপরিহার্য, কোন ক্ষেত্রে এটি কেবল অতিরিক্ত ব্যয় এবং কোথায় আরও সহজ বিকল্প রয়েছে, সেটি নির্ধারণ করা।
পরিবেশের ওপর প্রভাব: ছোট অপচয়ের বড় হিসাব
একটি পোস্টার দেখতে সামান্য কাগজের টুকরা। কিন্তু হাজারো প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও ব্যক্তির নিয়মিত প্রচারের সঙ্গে এই ব্যবহার যুক্ত হলে কাগজের চাহিদা, মুদ্রণপ্রক্রিয়া, পরিবহন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন সামনে আসে। কাগজ উৎপাদনে কাঁচামাল, পানি ও শক্তির প্রয়োজন হয়। ছাপার কাজে ব্যবহৃত কালি ও অন্যান্য উপকরণেরও পরিবেশগত প্রভাব থাকতে পারে। পোস্টারে প্লাস্টিকের আবরণ, লেমিনেশন কিংবা কৃত্রিম আঠা ব্যবহার করা হলে সেগুলো পুনর্ব্যবহারের প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে।
তবে সব কাগজের পোস্টারের পরিবেশগত প্রভাব এক নয়। কাগজের ধরন, উৎপাদনপ্রক্রিয়া, কালি, পরিবহন, ব্যবহারকাল এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে। তাই প্রতিটি পোস্টারকে সমানভাবে পরিবেশদূষণের জন্য দায়ী করা বৈজ্ঞানিকভাবে যথার্থ হবে না।
জাতিসংঘের অ্যাক্টনাউ উদ্যোগে প্রকাশিত পরিবেশবিষয়ক তথ্যে বলা হয়েছে, এক টন কাগজ পুনর্ব্যবহার করলে আনুমানিক ১৭টি গাছ এবং ৫০ শতাংশ পানি সাশ্রয় করা সম্ভব। এই হিসাব কাগজ পুনর্ব্যবহারের সম্ভাব্য উপকারিতা বোঝায়। তবে একে প্রতিটি পোস্টারের জন্য সরাসরি প্রযোজ্য হিসাব হিসেবে দেখা যাবে না।
কাগজের অপচয় কমানোর অর্থ তাই শুধু গাছ রক্ষা নয়; উৎপাদনে ব্যবহৃত সম্পদ সাশ্রয়, বর্জ্যের চাপ কমানো এবং সীমিত সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাও এর অংশ।
বাংলাদেশের বাস্তবতা কী বলছে?
বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এই আলোচনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মিউনিসিপ্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভে ২০২২-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের ৩৪২টি পৌরসভায় উৎপন্ন প্রায় ৮০ লাখ টন কঠিন বর্জ্যের মাত্র ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা হয়েছিল। একই অর্থবছরে ছয়টি সিটি করপোরেশন এলাকায় উৎপন্ন প্রায় ৩৯ লাখ টন বর্জ্যের ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ পুনর্ব্যবহারের তথ্য উঠে আসে।
এই পরিসংখ্যান থেকে সরাসরি বলা যাবে না যে কাগজের পোস্টারের কারণেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এত বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কারণ, ওই পরিসংখ্যান সব ধরনের কঠিন বর্জ্য নিয়ে, শুধু পোস্টার নিয়ে নয়। তবে এটি স্পষ্ট করে যে বর্জ্য উৎপাদনের পাশাপাশি পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বিবিএসের পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ, জলবায়ু ও দুর্যোগ পরিসংখ্যানের আওতায় পরিবেশ পরিসংখ্যান ২০২৪ এবং পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন উপাত্ত প্রকাশ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও কার্যকর নীতি প্রণয়ন সম্ভব। তবে দেয়ালে ব্যবহৃত পোস্টারের মোট সংখ্যা, সেগুলোর কাগজের পরিমাণ কিংবা পোস্টার থেকে সৃষ্ট বর্জ্যের জাতীয় হিসাব আলাদাভাবে জানা না থাকলে সমস্যাটির পূর্ণ মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন।
এই তথ্যঘাটতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পোস্টার ব্যবহারের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে হলে অনুমাননির্ভর দাবি না করে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা প্রয়োজন।
ডিজিটাল বিকল্প কি সত্যিই সহজ সমাধান?
বর্তমানে কোনো অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ, চাকরির বিজ্ঞপ্তি কিংবা জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের জন্য ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, টেলিগ্রাম চ্যানেল, ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল পর্দা ব্যবহার করা যায়। একটি ডিজিটাল পোস্টার কয়েক মিনিটের মধ্যে শত শত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। প্রয়োজন হলে একই নকশায় তারিখ, স্থান কিংবা যোগাযোগের তথ্য সংশোধন করে আবার প্রকাশ করা যায়। নতুন করে কাগজ ছাপানো বা পুরোনো পোস্টার সরানোর প্রয়োজন হয় না।
ধরা যাক, একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে নতুন ব্যাচে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটি যদি নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং শিক্ষার্থীদের পরিচিত নেটওয়ার্কে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে সীমিতসংখ্যক কাগজের পোস্টার দিয়েও প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। একইভাবে কলেজের অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন, সেমিনার কিংবা স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের প্রচারেও ডিজিটাল মাধ্যম কার্যকর হতে পারে।
তবে ডিজিটাল প্রচারকে সর্বক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বা ব্যয়সাশ্রয়ী ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। ইন্টারনেট ব্যবহারে বিদ্যুৎ লাগে, ডিজিটাল যন্ত্র তৈরিতে সম্পদ প্রয়োজন হয় এবং সব মানুষের সমানভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তি নির্দিষ্ট এলাকার সব মানুষের কাছে পৌঁছাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।
সুতরাং কাগজের পোস্টারের বিকল্প মানেই শুধু ডিজিটাল পোস্টার নয়। বিকল্প হতে পারে প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে একটি স্থায়ী বিজ্ঞপ্তি বোর্ড, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যানার, একাধিক বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শনের উপযোগী বোর্ড কিংবা নির্দিষ্ট এলাকার জন্য একটি যৌথ প্রচারব্যবস্থা। কোন বিকল্পটি সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বার্তার ধরন, লক্ষ্যপাঠক, খরচ ও পরিবেশগত প্রভাবের ওপর।
দেয়াল নয়, ব্যবস্থাপনাই হোক প্রচারের কেন্দ্র
কাগজের পোস্টারের নেতিবাচকতা শুধু কাগজের অপচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। অনুমতি ছাড়া দেয়ালে পোস্টার লাগানো হলে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনার সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কচিহ্ন, নির্দেশনা কিংবা জনসাধারণের ব্যবহারের স্থান ঢেকে গেলে সমস্যা আরও বাড়ে। পোস্টার অপসারণে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। দেয়াল পরিষ্কার করা, আঠার দাগ দূর করা কিংবা নতুন করে রং করার দায়িত্বও শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নিতে হয়।
এই সমস্যার সমাধানে শুধু নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়। বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে পোস্টার বন্ধের নির্দেশ দিলে মানুষ আবারও অননুমোদিত দেয়ালে পোস্টার লাগাতে পারে। বরং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্দিষ্ট প্রচার বোর্ড স্থাপন করতে পারে। সেখানে নির্ধারিত সময়ের জন্য বিজ্ঞপ্তি লাগানো যাবে। মেয়াদ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পোস্টার সরিয়ে ফেলতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি সমন্বিত বিজ্ঞপ্তি বোর্ড রাখা যেতে পারে, যেখানে চাকরি, ভর্তি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে। এতে অপ্রয়োজনীয় পোস্টারের সংখ্যা কমবে এবং তথ্য খোঁজাও সহজ হবে।
সহজ সমাধানেই কমতে পারে অপচয়
প্রথমত, কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে প্রয়োজন যাচাই করতে হবে। যে তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে কার্যকরভাবে প্রচার করা সম্ভব, তার জন্য অপ্রয়োজনীয় বিপুলসংখ্যক পোস্টার ছাপানোর দরকার নেই।
দ্বিতীয়ত, পোস্টার ছাপানোর পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে সম্ভাব্য পাঠক ও প্রচারের এলাকার ভিত্তিতে। শুধু বেশি পোস্টার লাগালেই বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, এমন ধারণা সঠিক নয়।
তৃতীয়ত, কাগজের পোস্টার প্রয়োজন হলে পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাগজ, উপযুক্ত মুদ্রণপদ্ধতি এবং সহজে আলাদা করা যায় এমন উপকরণ বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি পোস্টার যথাসময়ে সংগ্রহ করাও জরুরি।
চতুর্থত, স্থানীয় পর্যায়ে পোস্টার সংগ্রহ ও বাছাইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিষ্কার ও উপযুক্ত কাগজ পুনর্ব্যবহারের জন্য পাঠানো যেতে পারে। প্লাস্টিক-আবৃত বা অন্যান্য উপকরণযুক্ত পোস্টার আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করা প্রয়োজন হতে পারে।
পঞ্চমত, প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সহজ নীতিমালা তৈরি করা যেতে পারে। কোথায় পোস্টার লাগানো যাবে, কত দিন রাখা যাবে এবং কে তা সরিয়ে নেবে, এসব বিষয় স্পষ্ট থাকলে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ কমবে।
সবশেষে, জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পোস্টার লাগানো যেমন প্রচারের দায়িত্ব, তেমনি সেটি অপসারণ করাও প্রচারকারীর দায়িত্ব। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
প্রয়োজন থাকুক, অপচয় নয়
আধুনিক যুগে কাগজের পোস্টারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হওয়া উচিত প্রয়োজন, কার্যকারিতা ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে। যেসব এলাকায় ডিজিটাল যোগাযোগ সীমিত, কিংবা যেখানে সরাসরি চোখে পড়ার মতো বিজ্ঞপ্তি প্রয়োজন, সেখানে পোস্টারের গুরুত্ব থাকবে। কিন্তু শুধু অভ্যাসের কারণে, সাময়িক প্রচারের জন্য কিংবা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সংখ্যায় পোস্টার ছাপানো যুক্তিসংগত নয়।
প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের যোগাযোগের নতুন সুযোগ দিয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপ্রয়োজনীয় মুদ্রণ কমানো, প্রয়োজনীয় পোস্টারের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এর জন্য বড় কোনো প্রযুক্তিগত বিপ্লবের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন পরিকল্পনা, দায়িত্বশীলতা এবং প্রচারের পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা।
দেয়াল মানুষের তথ্য জানার একটি মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু সেটিকে অবিরাম বিজ্ঞাপনের স্তূপে পরিণত করার প্রয়োজন নেই। একটি পোস্টার যতটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেয়, তার চেয়ে বেশি অপচয় তৈরি করলে সেই প্রচারের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। আধুনিকতার পরিচয় শুধু নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে নয়, বরং কোন কাজটি সত্যিই প্রয়োজন এবং কোন অপচয়টি সহজেই এড়ানো সম্ভব, সেই বোধ গড়ে তোলার মধ্যেও।
