কালবেলা · সাধারণ
স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে পেটে লাথি, গর্ভের সন্তান হারালেন গৃহবধূ
২৩/১০/২০২৬

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় প্রতিবেশীর হামলা থেকে স্বামীকে রক্ষা করতে গিয়ে পেটে লাথির শিকার হয়েছেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ মেরিনা খাতুন (৪৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত সন্তান প্রসব করেন তিনি। এ ঘটনায় মজনু মিয়াসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তার স্বামী কৃষক শাহ আলী ফকির।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ধুনট থানায় এ অভিযোগ করেন শাহ আলী ফকির। তিনি উপজেলার দিদারপাড়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাঙ্গামাটি গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে মজনু মিয়া (৪৭) এক প্রতিবেশী নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত বলে এলাকায় অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টিকে গুজব দাবি করেন মজনু। একই সঙ্গে এ গুজব ছড়ানোর জন্য শাহ আলীকে দায়ী করেন তিনি।
এ নিয়ে গত ১৯ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহ আলীকে গালিগালাজ করেন মজনু মিয়া। শাহ আলী প্রতিবাদ করলে মজনু ও তার লোকজন তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেরিনা খাতুন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তার পেটে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেছেন শাহ আলী। এতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেরিনা খাতুন মৃত সন্তান প্রসব করেন।
এ ঘটনায় শাহ আলী ফকির মজনু মিয়াসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
অভিযোগের পর থেকে মজনু মিয়া ও তার লোকজন আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗