গবেষক, প্রাবন্ধিক, লেখক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদের ৮০তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৬ সালের এই দিনে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার এলাচিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবা সৈয়দ আবুল মাহমুদ এবং মা সালেহা বেগম।
শিক্ষাজীবনে ঝিটকা আনন্দমোহন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সাংবাদিকতায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন জার্মানির বার্লিনে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর জার্নালিজম থেকে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ পাঠকদের কাছে বিশেষ পরিচিতি পান জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তাঁর ‘সহজিয়া কড়চা’ ও ‘বাঘা তেঁতুল’ শীর্ষক কলামের মাধ্যমে। এসব লেখায় সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরতেন তিনি। তাঁর লেখায় যুক্তিনির্ভর সমালোচনা, নৈতিক অবস্থান ও প্রতিবাদী মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে।
লেখালেখির পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশ আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে তিনি পশ্চিমা পোশাক পরা ছেড়ে দেন। মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতি অনুরাগ থেকে সুতির সাদা কাপড়কে প্রতিবাদের পোশাক হিসেবে বেছে নেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি এ পোশাক পরেছেন।
ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে গবেষণামূলক লেখালেখিতেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে নিয়ে তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবন, কর্মকাণ্ড, রাজনীতি ও দর্শন’, যা ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া তিনি লেখেন ‘ভাসানী কাহিনী’। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৪০টির বেশি।
সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ।
একজন লেখকের গুরুত্ব তাঁর সময় ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। সৈয়দ আবুল মকসুদের লেখায় সমকালীন সমাজের প্রচলিত ধারণা, ভ্রান্তি ও আত্মপ্রবঞ্চনা নিয়ে প্রশ্ন উঠে এসেছে। ক্ষমতার প্রশংসার বদলে সত্যের অনুসন্ধান এবং যুক্তিনির্ভর অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার যে দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর লেখায় প্রতিফলিত হয়েছে, তা তাঁকে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে।
২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও গবেষণার জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
