রিসোর্টে আগুন, চারদিকে ধোঁয়া আর মানুষের ছোটাছুটি। এমন পরিস্থিতিতে আহত এক নারী ও এক পুরুষকে নিজের টমটমে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান চালক আমির হামজা। তাদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা না করেই হাসপাতালে পৌঁছে দেন তিনি। চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন হলে বাড়ি থেকে টাকাও এনে দেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে আবার হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজ নেন এই অটোচালক।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। এ সময় আহত ওই নারী ও পুরুষকে দেখতে পান আমির হামজা। প্রথমে তাদের উখিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইনানী থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পৌঁছে দেন।
আমির হামজা বলেন, আগুন ও ধোঁয়া দেখে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ওই নারী ও পুরুষকে দেখতে পাই। তাদের হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন বুঝে নিজের টমটমে তুলে করে পৌঁছে দিই।
তিনি জানান, তাদের নাম-ঠিকানা বা পরিচয় জানার চেষ্টা করেননি। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন হলে বাড়ি থেকে টাকা এনে দেন। দুপুরেও হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজ নেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মো. আলম বলেন, সকাল ১১টার দিকে টমটমে করে এক নারী ও এক পুরুষকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে দেখি। তাদের শরীরে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন ছিল। তবে পরে তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারিনি।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ছয়জনই আশঙ্কামুক্ত। টমটমে করে হাসপাতালে আসা রোগীদের কেউ মারা যাননি। তবে আমির হামজা ঠিক কোন দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন, তা তিনি নিশ্চিত নন।
উখিয়ার সোনাপাড়া ভালোম্বর বরুড়া এলাকার বাসিন্দা আমির হামজা পেশায় টমটমচালক। প্রতিদিনের আয়েই চলে তার সংসার।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।