রংপুরে গ্রেপ্তারের পরদিন আওয়ামী লীগের এক নেতার জামিন পাওয়ার ঘটনায় মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম নাজমুল কাদেরকে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের দুটি মামলাসহ মোট তিনটি মামলার তথ্য আদালতের কাছে গোপন রাখার অভিযোগ উঠেছিল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, ওসির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিনে মুক্ত হওয়া এবং জুলাইয়ের দুই মামলা আড়াল করার অভিযোগ ওসি উঠেছিল। সেই অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ওসি একেএম নাজমুল কাদেরকে রংপুর থেকে বদলি করা হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোতয়ালী থানার ওসিকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) তিনি রংপুর ছেড়ে গেছেন।
যেসব মামলার তথ্য গোপন রাখা হয়
এদিকে পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নগরের নিসবেতগঞ্জ এলাকা থেকে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম দুলালকে গ্রেপ্তার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। বিদ্যুৎ আদালতের একটি মামলার ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিনই আদালতে হাজির করা হলে তিনি জামিন পান।
এরপর তিনি আবার আত্মগোপনে চলে যান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, দুলালের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় আরও তিনটি মামলা থাকলেও সেগুলোর তথ্য আদালতকে জানানো হয়নি।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে নগরীর সুপার মার্কেটের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গত ১৪ মার্চ জয়নাল আবেদীন বাপ্পী নামে একজন বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে দুলাল ৪৪ নম্বর আসামি।
একই দিন বিকেলে কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয় মোড় এলাকায় হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে গত ৯ মে রমজান আলী বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন।
এছাড়া চলতি বছরের ২১ আগস্ট নগরীর সিও বাজার কেল্লাবন্দ এলাকায় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে নাশকতার পরিকল্পনার বৈঠকের অভিযোগে ২৮ আগস্ট উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।
তিনটি মামলার তথ্য গোপন করে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম দুলালকে আত্মগোপনে যেতে সহায়তা করার অভিযোগ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। এ ঘটনায় বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় ছাত্র শক্তির নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে ওসিসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল।
এমআর/বিআরইউ
