উদ্ধার হওয়া লাশের অধিকাংশই নারী ও শিশুদের, যারা নিজেদের বাড়ির ভেতরে অবস্থানকালে হামলার শিকার হয়েছিলেন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৭৫ জন ফিলিস্তিনের লাশ। দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকা এসব লাশের জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
নিহতদের বেশির ভাগই গাজা সিটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দারাজ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। আল-জাজিরার সংবাদদাতা নূর খালেদ জানান, উদ্ধার হওয়া লাশের অধিকাংশই নারী ও শিশুদের, ‘যারা নিজেদের বাড়ির ভেতরে অবস্থানকালে হামলার শিকার হয়েছিলেন’। লাশগুলোর দেহের কিছু অংশ এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্রসহ উদ্ধার করা হয় এবং দাফনের আগে ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো হয়।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম পরিচালক আবদুল্লাহ আল-মাজদালাবি তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদলুকে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে দারাজ এলাকার বেশ কয়েকটি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিকের মাসগুলোতে বাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় ওই ভবনগুলোতে বোমা হামলা চালানো হয়। নিহতরা প্রায় ২০টি ফিলিস্তিনি পরিবারের সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে ওই বাড়িগুলোতে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত মানুষও রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজে মারাত্মক বেগ পেতে হচ্ছে। গত জুলাইয়ে সিভিল ডিফেন্স তাদের উদ্ধার অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রথম পর্যায়ের অভিযানে ৩৩৩টি মরদেহ এবং ৫৫৯ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল।
সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজাজুড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও প্রায় ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে আছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর তথ্যমতে, গাজায় প্রায় ২ লাখ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৪ হাজার ৪৭৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
