এ ঘটনায় দুটি হত্যা মামলা করা হয়। নজরুল ইসলাম ও তাঁর চার সহযোগী হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করেন। অন্যদিকে, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় চন্দনের জামাতা বিজয় কুমার পাল একই থানায় আরেকটি মামলা করেন।
দুটি মামলার বিচার একসঙ্গে সম্পন্ন করে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত ৩৫ আসামির মধ্যে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বাকি নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে নূর হোসেন ও র্যাব-১১-এর তৎকালীন তিন কর্মকর্তাও ছিলেন। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেন। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে আপিল ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদনের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের রায়ে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ আসামির মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। অন্য ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পাওয়া বাকি নয় আসামির সাজাও বহাল রাখা হয়। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) মাসুদ রানা।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি এখন আপিল বিভাগের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর নির্ধারিত শুনানিতে মামলার পরবর্তী আইনি অগ্রগতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
The post নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আপিল শুনানি ১৭ নভেম্বর appeared first on ভোরের চেতনা.
