সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
একই সঙ্গে হামলায় উসকানিদাতাদের শনাক্ত করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকির পরও শামীমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানায় ব্লাস্ট।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর শামীম ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্য রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরদিন ১৩ অক্টোবর বিকেলে ফজলুল হক আমিনী নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সরাসরি সম্প্রচারে (লাইভ) শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এ সময় তিনি শামীমের বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ করে তার শাস্তির দাবি জানান। পরে আরেকটি লাইভে শামীমের অবস্থানস্থলে লোকজনকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ব্লাস্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই লাইভের পর সেখানে কয়েকশ মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে একদল ব্যক্তি শামীমকে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বার থেকে বের করে নিয়ে দফায় দফায় মারধর করেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
কিন্তু ওই রাতেই শতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে চিকিৎসাধীন শামীমের ওপর আবারও হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সরাসরি হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি উসকানিদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ব্লাস্ট।
সংস্থাটি বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শামীমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
নিহত শামীমের পরিবারের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতেরও দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
ব্লাস্টের মতে, কোনো অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংসতা চালানো কিংবা বিচারবহির্ভূত শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
এফএইচ/এসএনআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
