অর্থনীতি চাঙা করতে মাস পাঁচেক আগে ৬০ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, তার ২০ শতাংশ ঋণও বিতরণ হয়নি।
১৫টি স্কিমের এ প্যাকেজে গত মে মাস থেকে বিতরণ হয়েছে ১৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ছয়টি স্কিমে কেউ এক টাকাও ঋণ নেয়নি।
এর বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা স্কিমে বিতরণ করা হয়েছে ৫৬১ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে ২ দশমিক ৮০ শতাংশ।
রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙা করতে গত ২৩ মে সংবাদ সম্মেলন করে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
এই তহবিলের ১৫টি স্কিমের এর মধ্যে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ১১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।
আরও ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার অর্থায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিতরণকৃত ও প্রক্রিয়াধীন অর্থের মোট পরিমাণ ১৪ হাজার ৫১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
১৫টির মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকার বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম। এই তহবিলের ৫৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ খাতে আরও ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিতরণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কোন স্কিমে কত বিতরণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, স্কিমভিত্তিক অগ্রগতির মধ্যে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃ অর্থায়ন স্কিমে ক্রমপুঞ্জীভূত বিতরণের পরিমাণ ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। কটেজ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য বিশেষ স্কিমে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃ অর্থায়ন তহবিল থেকে প্রায় ৯০৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিমে ৫৬১ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ খাতে আরও ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য গঠিত স্কিমে ৫০০ কোটি টাকা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পল্লী অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পুনঃ অর্থায়ন স্কিমে ২৯৩ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থায়ন স্কিমে ২০০ কোটি টাকা, উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র সৃষ্টির পুনঃ অর্থায়ন স্কিমে ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং স্টার্টআপ খাতে অর্থায়ন স্কিমে ৩২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। স্টার্টআপ স্কিমে আরও ৫ কোটি টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ছাড়া বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অর্থায়ন স্কিমে ১ হাজার কোটি টাকা, গ্রিন ফ্যাক্টরি বিল্ডিং ও গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিজ খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিমে ৫২৭ কোটি টাকা এবং চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রপ্তানিমুখী খাতে অর্থায়ন স্কিমে ৯৮ কোটি টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৬ স্কিমের এক টাকাও বিতরণ হয়নি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ছয় স্কিমের এক টাকাও বিতরণ হয়নি। স্কিমগুলো হচ্ছে, ১ হাজার কোটি টাকার বেকার যুবকদেরকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থায়ন স্কিম, ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন ফ্যাক্টরি বিল্ডিং এবং গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিজ খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, ২ হাজার কোটি টাকার চামড়াজাত পণ্য এবং পাদুকা রপ্তানীমুখী খাতে অর্থায়ন স্কিম, ৩ হাজার কোটি টাকার রপ্তানী বহুমুখীকরণ খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, ১ হাজার কোটি টাকার গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনার অর্থায়ন স্কিম এবং ২ হাজার কোটি টাকার হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানীমুখী খাতে অর্থায়ন স্কিম।
শিল্পোদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার এই প্রণোদনা তহবিলের ঋণ দেওয়ার কথা। সুদের বাকি ৬ শতাংশ সরকার দেবে।
প্রণোদনার আওতায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
