সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে দেখা গেল ‘কাঁটে কা টক্কর’। প্রথমে ব্যাটে করে অভিষেক শর্মার দাপটে টিম ইন্ডিয়া থামে ২২৩ রানে। শুরুটা ভালো না হলেও মাঝের সময়টায় দাপট দেখায় অতিথি দেশের ব্যাটাররা। কামিল পুরান আর শিমরন হেটমায়ার ক্যারিবিয়ানদের ইনিংসকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়েছিলেন। কিন্তু স্লগ ওভারে ভারতের বোলারদের দুরন্ত বোলিংয়ের সামনে মাথানত করল রিচার্ডসের দেশের খেলোয়াড়রা। বল হাতে দাপট দেখালেন অর্শদীপ সিং। ৪৪ রান দিলেও তুলে নিলেন মূল্যবান ৩ উইকেট। এর জেরে ৭ উইকেটে ২০৯ রানে শেষ হল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। দিনের শেষে ১৪ রানে ম্যাচ জিতল ভারত। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকল চলতি সিরিজে।
এদিন টসে জিতে প্রথম ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক শাই হোপ। দলে দুই বদল। শিবম দুবের জায়গায় নেওয়া হয় নীতীশ কুমার রেড্ডিকে। কুলদীপ যাদবের পরিবর্তে প্রিন্স যাদব। শুরুতে সঞ্জু স্যামসনের (৩) উইকেট খোয়ালেও অভিষেক এবং ঈশান কিষান ছিলেন তুরীয় মেজাজে। পাওয়ার প্লের ছ’ওভার ওঠে ৮৭ রান। দুই বাঁহাতি তারকার জুটিতে ওঠে ১১০ রান। রস্টন চেজের বলে ১৮ বলে ৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরতেই কিছুটা তাল কাটে। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার (১) ব্যর্থ। তিলক বর্মা (২৮) সেট হয়ে রান আউট। নমন ধীর (১০)-ও রান পেলেন না। নীতীশ রেড্ডি থামলেন ২১ রানে। শেষের দিকে অক্ষর প্যাটেল (২০) থাকায় ভারতের রান ২০০ পেরল। তবে তিনিও রান আউট হলেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২২৩ রানে অল আউট হয় ভারত।
ইন্দোরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের শুরু থেকেই মেজাজে ছিলেন অর্শদীপ-নমনরা। ব্যক্তিগত ৫ রানের মাথায় পাঞ্জাবের বোলার তুলে নেন বিপক্ষ দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার শাই হোপকে। এদিন কামিল পুরান রান পেলেও খেলা ঘোরাবার মতো ব্যাট করছিলেন কিন্তু শিমরন হেটমায়ার। মাত্র ২৬ বলে ৪৩ রান করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু সঠিক সময় বিপজ্জনক হয়ে ওঠা প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করলেন নমন। এরপর অক্ষর প্যাটেলের বলে ৫ রান করেই প্যাভিলয়নে ফিরে যান রভম্যান পাওয়েল।
একটা সময় মনে হচ্ছিল দ্রুত খেলা গুটিয়ে যাবে ভারতীয় বোলারদের দাপটে। কিন্তু তা হতে দেননি পুরান। শুরুতে শ্লথ গতিতে খেললেও পরের দিকে ইনিংসের গতি বাড়ান তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ৪২ রান করে নমনের বলে আউট হন তিনি। এরপরেও রাদারফোর্ড (৩২), স্যাম্পসন (২১) এবং শ্যামার স্প্রিঞ্জার (৩২) ম্যাচ জেতার প্রাণপন চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অর্শদীপ, নমন, অক্ষর, নীতিশদের বোলিং দক্ষতার সামনে এঁটে উঠতে পারেননি। হাজার চেষ্টা করেও শেষের ওভারগুলোতে বড় শট মারতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। কার্যত চক্রব্যূহে বাঁধা পড়ার মতো অবস্থা হয় তাঁদের। অবশেষে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে হারিয়ে ২০৯ রানে শেষ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। ১৪ রানে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।
উল্লেখ্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৩০ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেললেন ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা। ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করে বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা। আর এই ইনিংসের সৌজন্যেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে জোড়া বিশ্বরেকর্ড গড়লেন অভিষেক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ২০০০ রান করার নজির গড়েছেন তিনি। মাত্র ১০২৪ বলে এই মাইলফলকে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। এতদিন এই রেকর্ড ছিল সূর্যকুমার যাদবের দখলে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১১৬৪ বলে ২০০০ রান পূর্ণ করেছিলেন ভারতের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক। এবার সেই রেকর্ড অভিষেকের নামে।
তাছাড়াও এক ক্যালেন্ডার বছরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার নজিরেও ভাগ বসিয়েছেন ভারতীয় ওপেনার। এই ম্যাচের আগে চলতি বছরে তাঁর ছক্কার সংখ্যা ছিল ৬৩। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি ছক্কা মেরে সেই সংখ্যাকে ৬৮-তে নিয়ে গেলেন অভিষেক। এত দিন এই রেকর্ড একক ভাবে ছিল সূর্যকুমারের দখলে। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৬৮টি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। এবার সেই নজির স্পর্শ করলেন অভিষেক। তবে এখানেই শেষ নয়। চলতি বছরে এখনও সাতটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে তাঁর। ফলে ছক্কার সংখ্যায় নতুন রেকর্ড গড়ার হাতছানি থাকছে ভারতীয় ওপেনারের সামনে।
