বাড়বে গবেষণা
রক্তরোগের চিকিৎসায় দেশেই আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতের উদ্যোগ
রক্তরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য দেশেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গবেষণা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি। একই সঙ্গে তরুণ চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের (এইচএসবি) দুই দিনব্যাপী সপ্তম বার্ষিক সম্মেলন ‘হেমাটোকন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Shaping Tomorrow’s Haematology’। এতে বাহরাইন, ভারত, যুক্তরাজ্য, ইতালি, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুর থেকে আগত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্ট, চিকিৎসক ও গবেষকেরা অংশ নেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, রক্তরোগের চিকিৎসায় দেশের সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণার পরিধি বিস্তৃত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তরুণ চিকিৎসকদের আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি ও গবেষণায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞদের সেবা নিশ্চিত করতে হেমাটোলজিস্টদের পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি ও সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আমিন লুৎফুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। এ সময় সম্মেলনের মেম্বার সেক্রেটারি ও সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. আদনান হাসান মাসুদ, বৈজ্ঞানিক কমিটির কনভেনার ডা. মুজাহিদা রহমান এবং সোসাইটির বৈজ্ঞানিক সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনিরুল ইসলামসহ দেশের বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রক্তরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। চিকিৎসা ও গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির প্রয়োগে অগ্রগতি সম্ভব হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমএ রশিদ গ্রান্টের বিজয়ীদের হাতে গবেষণা অনুদান তুলে দেওয়া হয়। দেশে হেমাটোলজি বিষয়ে গবেষণার প্রসারে এ অনুদান ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকেরা। এ ছাড়া ‘Haematology Journal of Bangladesh’-এর গবেষণাপত্র মূল্যায়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রিভিউয়ারদের সনদ ও সম্মানী দেওয়া হয়।
সম্মেলনের প্রথম দিনে থ্যালাসেমিয়া, লিম্ফোমা, ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া (সিএমএল) এবং অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) বিষয়ে বৈজ্ঞানিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনে প্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া (এএলএল), হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন (এইচএসসিটি), সেলুলার থেরাপি ও ক্যানসার ইমিউনোথেরাপি নিয়ে বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
এ ছাড়া তরুণ হেমাটোলজিস্টরা তাঁদের গবেষণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপনের সুযোগ পান। বিভিন্ন অধিবেশনে রক্তরোগ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ের সম্ভাবনা, নির্ভুল রোগ নির্ণয়, ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা এবং টার্গেটেড থেরাপির সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পান দেশের চিকিৎসক, প্রশিক্ষণার্থী ও গবেষকেরা। এর মাধ্যমে তাঁরা রক্তরোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেশাগত যোগাযোগ তৈরির সুযোগ পান।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. আমিন লুৎফুল কবির সম্মেলন আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সবার অবদান এবং হেমাটোলজি চিকিৎসা ও গবেষণার উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে ডা. গোলজার হোসেন উজ্জলের পরিকল্পনা ও সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হয়। অনুষ্ঠানে আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য ও ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় তুলে ধরা হয়।
আয়োজকেরা জানান, হেমাটোকন-২০২৬-এর মূল লক্ষ্য হলো হেমাটোলজি গবেষণার প্রসার, চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রক্তরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা।
