Published on
:
2 min read
তিনি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে মাঝে মধ্যেই দাবি করেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার অনেকটা একই কথা শোনা গেল তাঁর স্ত্রী তথা আমেরিকার ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মুখে। ওলেশকি শহরে সাময়িক সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন। শুক্রবার এই খবর জানিয়ে মেলানিয়া বলেন, ‘আমার হস্তক্ষেপ ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।’
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউক্রেনের ওলেশকি শহর। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই শহরে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা। আর গোটা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুযায়ী, ওলেশকিতে যাতে যুদ্ধবিরতি হয়, তার জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন আমেরিকার ফার্স্ট লেডি নিজে। শুধু তাই নয়, এর জন্য দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগও নাকি শুরু করেছিলেন তিনিই। তার পরে আলোচনার টেবিলে যুদ্ধবিরতির শর্ত, সময়, পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষকে রাজি করান মেলানিয়া।
ওলেশকির বহু এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। রাস্তায় মাইন পাতা। তার মধ্য দিয়েই প্রাণ হাতে করে যাতায়াত করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন আয়োজিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ অনুষ্ঠানে একটি ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ওলেশকির এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন মেলানিয়া। তার পর থেকেই অস্থির হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
মেলানিয়া জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পরে ওলেশকিতে ত্রাণ পাঠানো হবে। নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে সেখানকার বাসিন্দাদের। স্বচ্ছতার সঙ্গে পুরো কাজ যাতে হয়, তা দেখার জন্য তিনি আমেরিকান সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন মেলানিয়া। তাঁরা রুশ ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের কাজকর্ম নিয়ে খবর করবেন। ওলেশকির বাসিন্দাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না, দেখবেন তা-ও।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে ওলেশকির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ হাজার। বর্তমানে সেখানে ১,৭০০ থেকে ২,০০০ মানুষ বসবাস করছেন বলে অনুমান। তাঁদের অধিকাংশই বয়স্ক। এ ছাড়াও প্রায় ৫০টি শিশু রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্য দিকে. খোরসানেও সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ। শুক্রবার একটি বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, ২৭ অক্টোবর ভোর ৪টে থেকে ওই এলাকায় কোনও আক্রমণ করবে না রুশ সেনা।
