নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি হাবিব হাসানসহ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এই মামলায় ২৬ আসামির মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁরা হলেন—ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।
গ্রেপ্তার এই আট আসামিকে রোববার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান অভিযোগ দুটি পড়ে শোনান এবং আসামিরা দোষী নাকি নির্দোষ তা জানতে চান। এ সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন তাঁরা। শুনানির সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহ, মঈনুল করিম ও সহিদুল ইসলাম সরদার উপস্থিত ছিলেন।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একটিতে বলা হয়েছে–২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে আহতদের হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা এবং ছাত্র-জনতার মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী মীর মুগ্ধ। একই দিন উত্তরায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও ডা. সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এ সময় আহত হয় বেশ কয়েকজন। এ ছাড়া পুলিশের একটি এপিসির পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়ের মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরায় আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রিদোয়ান শরীফ ওরফে রিয়াদ জয়, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে হত্যা করা হয়। এ সময় আহত হয় বেশ কয়েকজন।

