নজরুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম আমতলী পাড়া এলাকায় বন্য হাতির চলাচলে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পেরেকযুক্ত তক্তা রাখার অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ অক্টোবর রাতে ঘটনাস্থল থেকে ৩ ইঞ্চি পেরেকযুক্ত ১০৮টি এবং পেরেকবিহীন ৭০টি তক্তা জব্দ করে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। প্রতিটি তক্তার দৈর্ঘ্য ৬ ফুট। উদ্ধার করা তক্তাগুলো সরই বন বিভাগ কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।
ঘটনাস্থলটি ৩০১ নম্বর সরই মৌজার আমতলী পাড়ার উত্তরে অবস্থিত লন্ডনপ্রবাসী আইয়ুব চৌধুরীর মালিকানাধীন বলে উল্লেখ করা একটি নার্সারি এলাকায়। জায়গাটি আনুমানিক সাত কিলোমিটার দুর্গম পথের ভেতরে অবস্থিত।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লামা রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে সরই ক্যাম্প কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানসহ বন বিভাগের স্টাফরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ইআরটির সভাপতি নবী হোসেন, মো. শরীফ ও অনামাং ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযানকালে তক্তাগুলো জব্দ করে সরই বন বিভাগ কার্যালয়ে নিয়ে রাখা হয়।
হাতির চলাচলে বাধা না দেওয়ার আহ্বানের পরও পেরেকযুক্ত তক্তা
ঘটনাটির গুরুত্ব বেড়েছে বন বিভাগের পক্ষ থেকে হাতির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে। গত ৪ অক্টোবর লামায় হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬টি পরিবারের মাঝে ২১ লাখ টাকার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বন সংরক্ষক আমির হোসেন বলেছিলেন, “লামায় হাতি চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করা যাবে না, হাতির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে।”
বন সংরক্ষকের ওই বক্তব্যের মাত্র আট দিন পর সরই এলাকায় পেরেকযুক্ত তক্তা উদ্ধারের ঘটনায় বন্য হাতির নিরাপদ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তক্তাগুলো হাতির চলাচলের পথে ব্যবহৃত হয়ে থাকলে প্রাণীর পায়ে গুরুতর আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এগুলো কী উদ্দেশ্যে এবং কারা সেখানে রেখেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: বন কর্মকর্তা
এ বিষয়ে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, “আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তবে তক্তাগুলো কে বা কারা সেখানে রেখেছেন, কার নির্দেশে রাখা হয়েছে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বন বিভাগের তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
বন্য হাতির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি
লামা ও আশপাশের এলাকায় বন্য হাতির চলাচল এবং হাতি-মানুষের সংঘাত স্থানীয়দের জন্য দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। হাতির বিচরণক্ষেত্র ও চলাচলের পথ নিরাপদ রাখা, বন্য প্রাণীর সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সরইয়ের আমতলী পাড়া এলাকায় উদ্ধার করা পেরেকযুক্ত তক্তার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে বন্য হাতির স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
The post লামায় হাতির চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ, পেরেকযুক্ত ১০৮টি তক্তা জব্দ appeared first on Ctgtimes.com.
