কিছু প্রেমের গল্প আছে, যা পড়তে বসলে বুক চিনচিন করে। চোখ ভিজে যায় অজান্তে। আবার মনে হয়, এ তো আমাদেরই চেনা কারও গল্প। আপনি যদি ভালোবাসার আবেগ, মনখারাপ আর সম্পর্কের মায়ায় বুঁদ হতে ভালোবাসেন, তা হলে এই ৬ বই আপনার জন্য। চলুন একে একে দেখে নিই।
এসো না অসময়ে — অর্পিতা সরকারছবি: সংগৃহীত।
প্রেমের কি কোনও নির্দিষ্ট বয়স রয়েছে? অষ্টাদশী হোক কিংবা ত্রিশের সংযম, চল্লিশের দায়বদ্ধতা কিংবা শেষ বয়সের একসঙ্গে থাকার আকুলতা — সব রূপেরি দেখা মেলে এই বইয়ে। মোট দশটি বড় গল্প নিয়ে সাজানো এই সংকলন। সম্পর্কের দ্বন্দ্ব আর মানসিক টানাপড়েন চরিত্রগুলোকে আমাদের খুব চেনা করে তোলে। মেঘের মতো মনে প্রশ্ন জাগে, ‘কাকে মিস করি আমি? আর কেনোই বা মিস করি?’
চিত্ত চিরে চৈত্রমাস — মম সাহাছবি: সংগৃহীত।
চিত্রার বিছানার সামনে গিয়ে দাঁড়ান বাহার ভাই। নরম স্বরে জিজ্ঞেস করেন ‘কেমন আছ, রঙ্গনা?’ ভোঁতা যন্ত্রণা নিয়ে বিষাদ মুখে চিত্রা হেসে বলে, ‘আপনার অপেক্ষায়’। কংক্রিটের হৃদয়ের মানুষ বাহার ভাই আর পুষ্পপ্রেমী চিত্রার এই অদ্ভুত কথোপকথন মন কেড়ে নেয়। মিষ্টতা পেতে কি একটু-আধটু কাঁটার ঘা সহ্য করা যায়? বাহার যদি পোড়াতে জানে, তবে রঙ্গনা কি পারবে সেই আগুনে পুড়তে? যন্ত্রণার মাজেও ঠাট্টা আর বালোবাসার এক অপূর্ব গল্প বলে এই বইটি।
তুমি আছো তাই — এল. এম. জে. ইব্রাহিমছবি: সংগৃহীত।
ভালোবাসা কি শুধু অনুভূতির নাম, নাকি তা এক অবিনশ্বর বন্ধন? সম্পর্কের জটিলতা, দূরত্বের তীব্র যন্ত্রণা আর অব্যক্ত আবেগের অপূর্ব সমন্বয় এই উপন্যাস। নায়ক-নায়িকার জীবনে আসে এমন সব মুহূর্ত, যেখানে ভালোবাসাকে লড়তে হয় কঠিন বাস্তবতার সামনে। সত্যিকারের ভালোবাসা কি সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায়, নাকি আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে? সেই উত্তরই খোঁজে এই বই।
কর্পোরেট প্রেম — অরুণ কুমার বিশ্বাসছবি: সংগৃহীত।
টুঙ-টুঙ! মেসঞ্জারের শব্দে বিরক্ত শাহেদ। মশা মারার ঢঙে হাত চালিয়ে বলে, ‘এ সব কী হচ্ছে শাওলি?’ স্বামী হিসেবে সর্বংসহা শাহেদ আর ফ্যানদের নিয়ে ব্যস্ত শাওলির মজার রসায়ন। কর্পোরেট জীবনের ব্যস্ততা, ফেসবুকের তুঘলকি কাণ্ড আর দাম্পত্যের চেনা টানাপড়েন নিয়ে দারুণ এক আধুনিক গল্প।
প্রেমাতাল — মৌরি মরিয়মছবি: সংগৃহীত।
মুগ্ধ আর তিতিরের দেখা হয়েছিল ভ্রমণপথে। হারিয়ে গিয়ে ঘটে রোমাঞ্চকর সব ঘটনা। আর তার পরেই গভীর প্রণয়। কিন্তু সুখের দিনে হঠাৎই হাজির হয় ভাঙনের দৈত্য! দুই প্রান্তে ছিটকে পড়া আর হারানোর ভয়ে দিশেহারা দু’জনে। জীবনের কোন ভান্ডারে টান পড়েছিল তাঁদের? প্রেমের অতল সাগরে ভাসতে হলে ডুব দিতে হবে এই গল্পে।
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে — সালমা চৌধুরীছবি: সংগৃহীত।
অদৃশ্য এক মায়াবী স্বপ্নঘোর মুহূর্তেই মন ভালো করে দিয়ে যায়। অদ্ভুত এক অনুভূতি মনপিঞ্জরে সুখের আভাস ছড়ায়। হৃদয়ে প্রণয়ের মোহ জাগায়। গোধূলিবেলার রোদ্রময়ী আকাশ দেখে অজান্তেই বক্ষস্পন্দন কম্পিত হয়। হৃদয়ের সবটুকু জুড়ে প্রবল ভাবে কারও শূন্যতা অনুভব করে। এই শূন্যতার নাম নেই, রং নেই আর কোনও রূপও নেই। শহরের বুকে সন্ধ্যে নামলে নিয়নবাতির হলদে আলোর ভিড়ে সেই শূন্যতা বিলীন হয়ে যায়। বর্ষণের অশ্রান্ত আকাশের মতো প্রশ্নগুলোও বিধ্বস্ত প্রায়। যার উত্তর খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কেউ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে তাকে আর ক্ষণেক্ষণে কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলে যাচ্ছে, ‘আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে।’
একনজরে
বইয়ের সংখ্যা: ৬টি
বিষয়: প্রেম, বিরহ, অভিমান ও সম্পর্কের টানাপোড়েন
বইয়ের তালিকা: ‘এসো না অসময়ে’, ‘চিত্ত চিরে চৈত্রমাস’, ‘তুমি আছো তাই’, ‘কর্পোরেট প্রেম’, ‘প্রেমাতাল’ এবং ‘আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে’
যাঁদের জন্য: সমকালীন বাংলা প্রেমের গল্প ও উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন যাঁরা
বিশেষ আকর্ষণ: ভালোবাসার নানা রূপ, সম্পর্কের জটিলতা এবং মনের অব্যক্ত অনুভূতি
FAQ: সাধারণ জিজ্ঞাসা
১. প্রেমের গল্প নিয়ে এই প্রতিবেদনে কোন ৬টি বইয়ের কথা বলা হয়েছে?
‘এসো না অসময়ে’, ‘চিত্ত চিরে চৈত্রমাস’, ‘তুমি আছো তাই’, ‘কর্পোরেট প্রেম’, ‘প্রেমাতাল’ এবং ‘আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে’।
২. ‘আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে’ বইটির লেখক কে?
বইটির প্রচ্ছদে লেখক হিসেবে সালমা চৌধুরীর নাম রয়েছে।
৩. ‘কর্পোরেট প্রেম’ বইটির লেখক কে?
‘কর্পোরেট প্রেম’ বইটির লেখক অরুণ কুমার বিশ্বাস।
৪. ‘প্রেমাতাল’ বইটির লেখক কে?
‘প্রেমাতাল’ বইটির লেখক মৌরি মরিয়ম।
৫. ‘চিত্ত চিরে চৈত্রমাস’ বইটির লেখক কে?
বইটির লেখক মম সাহা।
৬. এই বইগুলিতে কী ধরনের গল্প রয়েছে?
এই বইগুলিতে প্রেম, বিচ্ছেদ, অভিমান, মানসিক টানাপোড়েন, দাম্পত্যের জটিলতা এবং ভালোবাসার নানা অনুভূতি উঠে এসেছে।
৭. তরুণ পাঠকদের জন্য এই বইগুলি কেন আকর্ষণীয় হতে পারে?
সমকালীন সম্পর্ক, ব্যক্তিগত অনুভূতি, দূরত্ব ও ভালোবাসার জটিলতা নিয়ে লেখা গল্প তরুণ পাঠকদের নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।
