অনিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার ক্লাস পরীক্ষায়-বিলম্বে উপস্থিতি ও লম্বা চুল রাখার কারণ জানতে চেয়েছিলেন শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষক। এমন প্রশ্নে তর্কে জড়িয়ে এক উৎশৃংঙ্খল শিক্ষার্থী তার হাতে থাকা কলম দিয়ে প্রশ্নকারী শিক্ষকের মুখের ডান পাশে কলম দিয়ে আঘাত করে। এই ঘটনা ঘটেছে রাউজান উপজেলা সদরের সরকারী আর আর এ সি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ১২ অক্টোবর সোমবার।
শিক্ষকের উপর আক্রমণকারী শিক্ষার্থী ভোকেশনাল বিভাগের নবম শ্রেণির ছাত্র। তার নাম মোহাম্মদ ইউছুপ। বাড়ি বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে ডাবুয়া ইউনিয়নের আরবনগর গ্রামে। সে ওই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ শফির ছেলে।
খবর নিয়ে জানা যায়, এদিন এই ভোকেশনাল বিভাগের পরীক্ষা ছিল। বিলম্বে পরীক্ষায় এসে বসেছিল ইউছুপ। এসময় দায়িতরত শিক্ষক সুচরিত চৌধুরী তার কাছে বিলম্বে আসার কারণ জানতে চায়, একই সাথে প্রশ্ন রাখেন কেন সে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসে না। মাথার চুল এত লম্বা কেন? শিক্ষকের এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সে শিক্ষকের সাথে তর্কে জড়ায়। একপর্যায়ে তার হাতে থাকা কলম দিয়ে শিক্ষকের মুখে আঘাত করে।
এই ঘটনায় শিক্ষক সুচরিত চৌধুরীর শরীর রক্তাক্ত হলে ঘটনা জেনে অন্যান্য শিক্ষকরা এসে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা দেন। একই সাথে উৎশংঙ্খল এই শিক্ষার্থীকে অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আটক করে। পরে তার মাকে ডেকে ছেলেকে আর বিদ্যালয়ে না পাঠানোর শর্তে তার হাতে তুলে দেয়। স্থানীয়া বলেছেন ওই ছেলের চলাফেরা করে কিশোর গ্যাং এর সাথে। একারণে সে এত বেপরোয়া।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই ঘটনা তদন্তে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আলীকে প্রাধান ও শিক্ষক শিপ্রা দে ও মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সদস্য করে তিন কমিটি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কমিটি রির্পোট দিয়েছে। রির্পোট পর্যালোচনা করে ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করার পাশাপাশি এই ঘটনায় থানায় জিডি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
