বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে অনুমোদনহীন জ্বালানি তেলের দোকানে আগুন লেগে আট হাজার লিটার তেলসহ পুড়ে গেছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অটোরিকশার শোরুম ও তিনটি বাড়ি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের জোরগাছা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাত সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে ৩০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক।

আগুনের ঘটনায় চাঁদা না পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে দায়ী করেছেন চাঁদের আলো ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী ও ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুহিদুল ইসলাম।
মুহিদুল ইসলাম বলেন, গতকাল বিকেলে হেলমেট পরা এক যুবক মোটরসাইকেলে করে দুই লিটার পেট্রল নিয়ে এক হাজার টাকার নোট দেন। কর্মচারী মামুন টাকা ভাঙাতে ক্যাশ কাউন্টারে যাওয়ার পরপরই তেলের ড্রামে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই আগুন আশপাশের প্রতিষ্ঠান ও তিনটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই মোটরসাইকেল আরোহীকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মুহিদুলের অভিযোগ, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। চার মাস আগে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সুবল উদ্দিন তাঁর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ ছাড়া গত মাসে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী হাসনাত নামের এক ব্যক্তি মেসেঞ্জারে তাঁকে হুমকি দেন। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তাঁর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে সিয়াম হাসানকে মারধর করে হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর সন্দেহ, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রটিই পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে।
তবে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সুবল উদ্দিন তিন মাস আগে থেকে একটি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজ বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে ফিলিং স্টেশন, পাশের দুটি প্রতিষ্ঠান ও পেছনের তিনটি বাড়ি পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
মুহিদুলের দাবি, সেখানে তেলের পাশাপাশি কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডারও ছিল। অটোরিকশার শোরুমে থাকা পাঁচটি নতুন অটোরিকশা ও ৫৫টি ব্যাটারি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কম্পিউটার ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।
মুহিদুল জানান, ফিলিং স্টেশনের বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন না থাকলেও ফায়ার সার্ভিস ও জেলা পরিষদের অনুমোদন ছিল।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রফিকুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সেখানে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডারও বিক্রি করা হতো। ফায়ার সার্ভিস এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয় না; অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব বিস্ফোরক পরিদপ্তরের। প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন ছাড়াই জ্বালানি তেল বিক্রি করছিল।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, চাঁদা দাবির বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে মুহিদুলের এক কর্মচারী হিসাব বুঝিয়ে না দিয়ে চাকরি ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ‘অনুমোদনহীন জ্বালানি তেলের দোকানে আগুনের খবর পেয়েছি। ফায়ার সার্ভিস এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

