ভারতের মধ্যপ্রদেশের শহর গওয়ালিয়রে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জন দর্শনার্থী নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) গভীর রাতে গওয়ালিয়রের শীতেলা মাতা মন্দিরের কাছে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একটি নিয়ন্ত্রণহীন ভারী ট্রাক পুলিশের চেকপোস্ট ও ব্যারিকেড ভেঙে মন্দিরের আশপাশে সমবেত দর্শনার্থীদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী আহত হয়েছেন। খবর এনডিটিভি'র।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্যে প্রকাশ, ধানবোঝাই একটি ভারী ট্রাক চিনোর দিক থেকে গওয়ালিয়রের দিকে আসছিল। পথিমধ্যে একটি তীব্র ঢালু রাস্তায় পৌঁছানোর পর ট্রাকটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
লক্ষণীয় যে, ওই নির্দিষ্ট ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় ভারী যান চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ট্রাকটি ওই পথ দিয়ে প্রবেশ করে এবং ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিবরণ অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকটি প্রথমে মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ব্যারিকেড ও চেকপোস্ট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
এরপর গতি আরও বেড়ে গেলে রাস্তার ওপর অবস্থান করা বা সমবেত হওয়া দর্শনার্থীদের ওপর ট্রাকটি সজোরে চালিয়ে দেওয়া হয়। তীর্থযাত্রীদের চাপা দেওয়ার পর ভারি ট্রাকটি সোজা গিয়ে ধাক্কা খায় শীতেলা মাতা মন্দিরের মূল গেট এবং সুরক্ষিত বাইরের দেয়ালে। ধাক্কার তীব্রতায় মন্দিরের গেট ও দেয়ালের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। গওয়ালিয়রের সিনিয়র সুপারিনটেন্ডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) ধর্মবীর সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই আহত অবস্থায় মোট ৩৯ জনকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১২ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, হতাহতদের মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ৬ জন দর্শনার্থীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বাকি আহতরা তুলনামূলকভাবে সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অনেকেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।
এই দুর্ঘটনায় পুরো গওয়ালিয়র এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মন্দিরে সমবেত হওয়া সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের পরিবারের মধ্যে চলছে আহাজারি।
এদিকে, পুলিশ প্রশাসন পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে ভারী যানটি নিষিদ্ধ পাহাড়ি ও ঢালু রাস্তায় প্রবেশ করল এবং চালক মদ্যপ ছিলেন কি না কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
