পাট দিয়ে প্রতিমার অলঙ্করণ দোয়েল দাস দে-র। ডান দিকে, তাঁর তৈরি মুকুটEi Samay
Published on
:
1 min read
এই সময়, শিলিগুড়ি: তাঁর হাতে তৈরি মুকুট দেখলে অনেকের ঈর্ষা হতে পারে। রঙিন কাগজ, পুঁতি, নানা রকম কাচের টুকরো দিয়ে তৈরি সেই মুকুট দেখে কার বলার সাধ্যি, এটি নকল। হাতের বাজুবন্ধ, গলার হার, কী না তৈরি করেন শিলিগুড়ির মধ্য চয়নপাড়ার বাসিন্দা দোয়েল দাস দে। ছোট থেকেই ক্রাফটের দিকে নজর। বাবা-মায়েরও আপত্তি ছিল না। যেখানেই শুনেছেন ক্রাফটের কাজ হচ্ছে, সেখানেই ছুটে গিয়েছেন। কেবল শিখলেই তো আর হবে না, সেটাকে বাণিজ্যিক রূপও দিতে হবে। দোয়েল তাই শিলিগুড়িতে প্রতিমা অলঙ্করণ শুরু করেন।
২০০৩ থেকে কাজে নেমেছেন। দেখতে দেখতে ২৩টি বছর পার। পুঁতি, কাচের টুকরো ছেড়ে এখন মাটির কাজে হাত দিয়েছেন। তবে এ বছর মাত্র দু'টি পুজোর কাজ করছেন। কারণ, শিলিগুড়ির প্রতিমা শিল্পে এখনও নাবালক দশা কাটেনি। বাঁশের কাঠামো খড় দিয়ে বেঁধে মাটি লেপার পরে কোনও রকমে রং করে দিতে পারলেই হলো! অলঙ্করণের জন্য সস্তার মালপত্র তো রয়েছে। ক্লাবগুলোও তাই। আলো এবং মণ্ডপে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করলেও প্রতিমার অলঙ্করণে তেমন আগ্রহ নেই। ফলে দোয়েলের লড়াই থামেনি।
শিলিগুড়িতে এখন কেবল দুর্গা নয়, কালী এবং গণেশ পুজোও হয়। দোয়েল সর্বত্র কাজের চেষ্টা করেন। কয়েক বছর আগে পাট দিয়ে প্রতিমার অলঙ্করণ দেখে দর্শনার্থীদের চোখ জুড়িয়ে গিয়েছিল। তবে পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক কম। দোয়েল বলেন, 'বাবা বলতেন, হাতের কাজ জানলে ভাতের অভাব হয় না। সেটাই মেনে চলি। নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি। পুজো কমিটিগুলিকে বোঝানোর চেষ্টা করি। কেউ বোঝেন, কেউ বোঝেন না। আমি লড়াই ছাড়ব না।'
দোয়েলের বাড়িতে লোকজন বলতে স্বামী কৌশিক দে আর বৃদ্ধা শাশুড়ি। একমাত্র বোন বিয়ের পরে চেন্নাই প্রবাসী। ভাই হায়দরাবাদে কর্মরত। কৌশিক হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত। শিলিগুড়ির একাধিক নামী হোটেলের কনসালট্যান্ট। নিজের কাজের বাইরে স্ত্রীকে সাহায্য করেন। তাঁর লড়াইয়ে পাশে থাকেন।