সংবাদ · খেলাধুলা
বাংলাদেশ-নেপালে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
২১/১০/২০২৬

বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ আয়োজনে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ২০২৭ আসর। মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের সম্পূর্ণ সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এই জাঁকজমকপূর্ণ প্রতিযোগিতাটি চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ১৬টি শক্তিশালী দলকে নিয়ে মোট ৪১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই আসরে। তরুণ নারী ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রতিভা বিশ্বমঞ্চে সঠিকভাবে তুলে ধরা এবং কাঙ্ক্ষিত শিরোপার জন্য লড়ার এক অনন্য সুযোগ করে দেবে এই প্রতিযোগিতা।এটি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসর হিসেবে ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেট এবং নেপালের কাঠমান্ডুর মোট চারটি আধুনিক ভেন্যুতে গড়ায়ে যাবে ম্যাচগুলো।এবারের আসরে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএটি)। উদ্বোধনী দিনেই স্বাগতিক দল হিসেবে মাঠে নামবে বাংলাদেশের মেয়েরা।অন্যদিকে, টানা দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত ২২ জানুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে তাদের শিরোপা ধরে রাখার কঠিন মিশন শুরু করবে।অংশগ্রহণকারী ১৬টি দলকে মোট চারটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল। গ্রুপ পর্বের জমজমাট লড়াই শেষে যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলো খেলবে সুপার সিক্স পর্বে। সেখান থেকে দুটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সরাসরি জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে।গ্রুপ সি-তে বাংলাদেশের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নাইজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই গ্রুপের ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের মেয়েদের মূল লক্ষ্য থাকবে পরবর্তী পর্বে নিজেদের জায়গা পাকা করা। অন্যদিকে, গ্রুপ এ-তে রয়েছে শক্তিশালী দল ভারত এবং সহ-আয়োজক নেপাল।২১ জানুয়ারি চারটি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপের লড়াই। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্রাউন্ড-১-এ সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে বিকেলে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে গত আসরের রানার্সআপ অস্ট্রেলিয়া।টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিন ২২ জানুয়ারি মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। কাঠমান্ডুর টিইউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে তারা।২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শেষ হওয়ার পর দলগুলো খেলবে সুপার সিক্স ও সেমিফাইনালে। সেমিফাইনালের ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সবশেষে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রত্যাশিত ফাইনাল ম্যাচ।আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে ভবিষ্যতের উদীয়মান ক্রিকেটারদের প্রতিভা তুলে ধরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এমন একটি চমৎকার মঞ্চ, যেখানে আমাদের খেলার ভবিষ্যৎ প্রতিভাদের স্পষ্টভাবে দেখা যায়। একই সঙ্গে এটি তরুণ খেলোয়াড়দের নিজেদের দেশের হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম সুযোগ।’এছাড়া বাংলাদেশ ও নেপালকে যৌথ আয়োজক হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, দুই দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর ক্যাসকেড ও ক্রিকেটের প্রতি গভীর আগ্রহই এই টুর্নামেন্টকে সফল করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗