প্রশ্ন করে একজন বলেন, আমি এক বছর আগে নিজের পছন্দের একটি মেয়েকে গোপনে বিয়ে করি শরিয়তসম্মত উপায়ে—দুজন পুরুষ সাক্ষী রেখে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণের দেনমোহর ধার্য করে ইজাব-কবুলের মাধ্যমে। কিন্তু এই বিয়ের কথা আমাদের উভয় পরিবারের কোনো সদস্য এখনো জানেন না। এখন আমি এই মেয়েকেই পারিবারিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঘরে তুলতে চাই।
সমস্যা হলো, এখন আমরা যদি গোপনে বিয়ের কথা পরিবারকে জানাই, তাহলে তারা ভীষণ কষ্ট পাবেন এবং পরিবারে নানা রকম ভুল বোঝাবুঝি, অশান্তি ও জটিলতার সৃষ্টি হবে। তাই আমরা গোপনে বিয়ের বিষয়টি পরিবারকে না জানিয়ে পারিবারিকভাবে নতুন করে আনুষ্ঠানিক বিয়ের আয়োজন করতে চাচ্ছি। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে আমাদের এই দ্বিতীয় বিয়ে কি বৈধ হবে?
বিজ্ঞাপন
উত্তর: গোপনে বিয়ে করা সামাজিকভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং শরিয়তের সাধারণ নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; কেননা ইসলামে বিয়ের প্রচার ও সামাজিক স্বীকৃতির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে শরিয়তসম্মত উপায়ে দেনমোহর নির্ধারণ করে প্রাপ্তবয়স্ক দুজন পুরুষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব ও কবুল সম্পন্ন হয়ে থাকলে—সেই বিয়ে শুদ্ধ (সহিহ) হয়ে যায়। সেই হিসেবে আপনারা বর্তমানে শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ স্বামী-স্ত্রী।
অতএব, পারিবারিক শান্তি বজায় রাখতে এবং উদ্ভূত জটিলতা এড়ানোর স্বার্থে একই স্ত্রীর সঙ্গে সামাজিকভাবে পুনরায় বিবাহ অনুষ্ঠান বা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নবায়ন (তাজদিদে নিকাহ) করাতে শরিয়তে কোনো বাধা নেই। এটি শরিয়াহ পরিপন্থি নয়, বরং জায়েজ।
তবে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো দেনমোহর:
পুনরায় বিবাহ নবায়নের সময় দেনমোহর নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। উভয়ের পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া পূর্বে নির্ধারিত দেনমোহরের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। মোহরানা বৃদ্ধি করতে চাইলে স্বামীর স্পষ্ট সম্মতি থাকতে হবে এবং কমাতে চাইলে স্ত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত অনুমোদন জরুরি। অন্যথায় পূর্বের ধার্যকৃত দেনমোহরই বলবৎ থাকবে।
সূত্র: বাদায়েউস সানায়ে: ২/৫২৩, খাইরুল ফাতওয়া: ৪/৩৮৩, মাহমুদিয়া: ১৬/৯৮, হক্কানিয়া: ৪/২৯৭, ইমদাদুল আহকাম: ২/২৩৭ ।
লেখক: সিনিয়র মুফতি ও শিক্ষাসচিব, শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
