জমি প্রস্তুত, মাচা তৈরি, গাছের পরিচর্যা সব মিলিয়ে কয়েক মাসের শ্রম আর প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন কৃষক জয়ান উদ্দিন। লাউগাছে ফলনও এসেছিল ভালো। আশা ছিল, খেতের লাউ বিক্রি করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরবে। কিন্তু রাতের আঁধারে তার সেই স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কেটে দেওয়া হয়েছে খেতের তিন শতাধিক ফলন্ত লাউগাছ। এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে তার পরিশ্রম, বিনিয়োগ আর প্রত্যাশিত আয়ের বড় একটি অবলম্বন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের বালিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় নিজের খেতে গিয়ে গাছগুলো কাটা অবস্থায় দেখতে পান জয়ান উদ্দিন। প্রতিটি গাছের গোড়া কেটে দেওয়ায় লাউগাছগুলো মাটিতে ঢলে পড়েছিল। এমন দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন তিনি। জমি তৈরি থেকে শুরু করে মাচা নির্মাণ ও পরিচর্যা পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গাছে প্রচুর লাউ ধরেছিল, যা বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। সেখান থেকে লাখ টাকার বেশি বিক্রির প্রত্যাশা ছিল তার। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই দুর্বৃত্তদের এ ঘটনায় এখন কীভাবে ক্ষতি সামাল দেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জয়ান উদ্দিন বলেন, অনেক কষ্ট করে নিজের জমানো টাকা দিয়ে খেত তৈরি করেছিলাম। গাছে প্রচুর লাউ ধরেছিল। সকালে লাউ তুলতে এসে দেখি, সব গাছের গোড়া কেটে দেওয়া হয়েছে। এখন আমার চলার আর কোনো উপায় রইল না। যে আমার এত বড় ক্ষতি করল, আল্লাহর কাছে তার বিচার চাই।
জয়ান উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম বলেন, এই খেত থেকে লাখ টাকার বেশি লাউ বিক্রির আশা করেছিলাম। কিন্তু কে বা কারা রাতের আঁধারে আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। আমরা কারও ক্ষতি করিনি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখজনক। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে যথাসম্ভব সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি পরবর্তী ফসল চাষের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।’
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
