জাতীয় দলের দরজা যতই বন্ধ থাক, নির্বাচকদের নোটবুকে যতই উপেক্ষিত হয়ে থাকুন, মহম্মদ সামি হাল ছাড়ার পাত্র নন। রবিবার রনজি ট্রফিতে বাংলার অভিযান শুরুর দিনেই সেই বার্তা দিয়ে রাখলেন বর্ষীয়ান পেসার।
- ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জাতীয় দলের দরজা যতই বন্ধ থাক, নির্বাচকদের নোটবুকে যতই উপেক্ষিত হয়ে থাকুন, মহম্মদ সামি হাল ছাড়ার পাত্র নন। রবিবার রনজি ট্রফিতে বাংলার অভিযান শুরুর দিনেই সেই বার্তা দিয়ে রাখলেন বর্ষীয়ান পেসার। দিল্লির বিরুদ্ধে ছয়টি স্পেলে নেওয়া সামির চার উইকেটই ভাঙন ধরাল বিপক্ষ ইনিংসে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আয়ুষ বাদোনি বাহিনী থামল ২৪০ রানে। এর মধ্যে শেষ তিন উইকেটে ৯২ রান যোগ করে তারা। না হলে দিল্লির স্কোর আরও করুণ দেখাত।
সরাসরি জয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে কল্যাণীতে খেলতে নেমেছেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। আকাশদীপ ও মুকেশ কুমারের সঙ্গে সামি, এই পেসার ত্রয়ীই বাংলার প্রধান ভরসা। সেই আস্থার মর্যাদা এদিন রাখলেন পেসাররা। তিন জনের মিলিত সংগ্রহ ৭ উইকেটে। এরমধ্যে সামিরই চারটি। ছোটো ছোটো স্পেলে তাঁকে এদিন ব্যবহার করা হয়। আর তাতে আরও বেশি বিধ্বংসী দেখায় সামিকে। তাঁর পরিসংখ্যান রীতিমতো ঈর্ষণীয়— ১৭.৩-৯-৩০-৪। আকাশ দীপ (২-৭৪), মুকেশ কুমারও (১-৪৩) কার্যকরী ভূমিকা নেন। দু’বছর পর বাংলা দলে সুযোগ পাওয়া অফস্পিনার আমির গনিও (৩-৪৫) সফল। দিল্লির হয়ে বড়ো রান পান ঋত্বিক শোকিন (৫৬) ও আয়ুষ দোসেজা (৪৫)।
বল হাতে আগুন ঝরিয়েও বাইশ গজ নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ সামি। দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘উইকেট থেকে সাহায্য পাইনি। মন্থর পিচ। আমরা গতিময় পিচ চেয়েছিলাম। যাতে পেসারদের জন্য মজুত থাকবে সাহায্য। কারণ, আমাদের মতো পেস অ্যাটাক দেশের আর কোনো রনজি দলে নেই। কিন্তু অনেকবার বলেও লাভ হয়নি। পছন্দের পিচ পাইনি।’ সামির এই তোপ কিউরেটর সুজন মুখার্জির উদ্দেশে। ৩৬ বছর বয়সি পেসার আরও বলেন, ‘আমি গ্রিনটপ চাইছি না। ঘাসে ভরা পিচ দিতেও বলছি না। কিন্তু এই পিচে আমরা খেলায় সকলেই অবাক। এখানে লম্বা স্পেলে বল করা মানে অহেতুক এনার্জি নষ্ট।’ সামির অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন কিউরেটর। তাঁর জবাব, ‘ভালো পিচেই খেলা হচ্ছে। এতে প্রত্যেকে সমান সুবিধা পাবে। কারও অভিযোগের জায়গা নেই।’ ঘটনা হল, মাঠে বাংলা বনাম দিল্লির চেয়ে কম আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে না মাঠের বাইরে সামি বনাম কিউরেটরের দ্বৈরথকে!
