Published on
:
3 min read
নেটব্যাঙ্কিং থেকে শুরু করে অনলাইনে কেনাকাটা—প্রায় প্রতিটি ডিজিটাল পরিষেবাতেই OTP বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ডের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু মোবাইলে আসা আসল OTP-র মতো দেখতে ভুয়ো মেসেজের ফাঁদে পড়ে অনেকেই প্রতারণার শিকার হন। তবে এই সমস্যা কমাতে এ বার OTP মেসেজের পুরো ধরনটাই বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)। নতুন নিয়ম চালু হলে মেসেজ দেখেই বোঝা যাবে সেটি কোন সংস্থা পাঠিয়েছে এবং কী কারণে OTP পাঠানো হয়েছে।
OTP মেসেজে কী বদল আসতে পারে?
বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক, ই-কমার্স সংস্থা-সহ একাধিক সংস্থা বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের OTP মেসেজ পাঠায়। তবে জানা গিয়েছে, TRAI একটি নতুন প্রস্তাব আনতে চলেছে, যেখানে OTP মেসেজের একটি নির্দিষ্ট সিস্টেম তৈরি করা হতে পারে। সেখানে OTP কেন পাঠানো হয়েছে, কোন সংস্থা সেটি পাঠিয়েছে এবং OTP কোডটির মেয়াদ কতক্ষণ—এই তথ্যগুলি উল্লেখ থাকতে পারে।
এ ছাড়া, মেসেজের প্রিভিউতে যাতে OTP সরাসরি দেখা না যায়, এমন ব্যবস্থার কথাও বিবেচনা করা হতে পারে। এতে আশপাশের কেউ সহজে কোডটি দেখে ফেলতে পারবেন না। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা?
বাড়ছে সাইবার প্রতারণা
জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং পোর্টাল অনুযায়ী ২০২১ সালে সারা দেশে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের রিপোর্ট জমা পড়েছিল প্রায় ২.৬২ লক্ষ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২৪.০২ লক্ষ। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও ৫৫১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২২,৪৯৫ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন দ্রুত বাড়তে থাকা এই সাইবার প্রতারণার ঘটনাগুলি বেশ উদ্ধেগজনক।
নতুন নিয়মেই কি বন্ধ হবে প্রতারণা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, OTP মেসেজের ধরন এক হলে আসল মেসেজ চেনা সহজ হতে পারে। তবে প্রতারকেরা একই ধরনের মেসেজ নকল করতে পারে। তাই শুধু এই নিয়ম চালু করলেই সাইবার প্রতারণা পুরোপুরি বন্ধ হবে না।
বর্তমানে যে সব সংস্থা তাদের কাস্টমারদের SMS পাঠায়, তাদের ক্ষেত্রে সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। নতুন প্রস্তাব এলে এই সিস্টেমে বদল আসতে পারে। তবে কী পরিবর্তন হবে, কী ভাবে হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সীমাবদ্ধতা কোথায়?
OTP মেসেজের ধরন এক করা হলে আসল মেসেজ চেনা সহজ হতে পারে, তবে এই ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।
১. প্রতারকেরা OTP পাঠানোর নির্দিষ্ট নিয়ম নকল করে একই রকম দেখতে ভুয়ো মেসেজ পাঠাতে পারে। ফলে মেসেজের ধরন এক হলেই সেটি আসল বলে ধরে নেওয়া নিরাপদ নয়।
২. সব ডিজিটাল সাইট বা অনলাইন ওয়েবসাইট, ই-কমার্স শুধু SMS-এর মাধ্যমে OTP পাঠায় না। কোনও কোনও সংস্থা WhatsApp বা অন্য মাধ্যমও ব্যবহার করে। ফলে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একই নিয়ম কার্যকর করা হলে তা কী ভাবে হবে তা নিয়েও কোনও পরিষ্কার গাইডলাইন আসেনি। বিশেষ করে বিদেশি সংস্থাগুলিকে এই নিয়মের আওতায় আনা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
৩. মেসেজে OTP কেন পাঠানো হয়েছে, মেয়াদ কতক্ষণ রয়েছে, তার উল্লেখ থাকলেও ব্যবহারকারী যদি প্রতারকের সঙ্গে নিজেই কোড ভাগ করে নেন, তা হলে এই ব্যবস্থা তাঁকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারবে না। একই ভাবে ভুয়ো ফোনকল, ফিশিং লিঙ্ক বা অন্য কৌশলে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিও থেকে যাবে।
OTP মেসেজের ধরন বদলালে সাধারণ মানুষের কী সুবিধা ও অসুবিধা হবে?
TRAI-এর প্রস্তাব কার্যকর হলে ব্যাঙ্কিং, অনলাইন কেনাকাটা এবং অন্যান্য ডিজিটাল পরিষেবার OTP মেসেজে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে আসল মেসেজ চেনা সহজ হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।
সাধারণ মানুষের কী কী সুবিধা হতে পারে?
১. আসল মেসেজ চেনা সহজ হবে: OTP কেন পাঠানো হয়েছে এবং কোন সংস্থা পাঠিয়েছে, তা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ থাকলে ইউজ়ার ভালো ভাবে বুঝতে পারবে।
২. নতুন ডিজিটাল ব্যবহারকারীদের সুবিধা: যাঁরা অনলাইন ব্যাঙ্কিং বা ডিজিটাল লেনদেনে নতুন ব্যবহার করছেন, তাঁদের কাছে OTP মেসেজ বোঝা সহজ হতে পারে।
৩. OTP-এর মেয়াদ সম্পর্কে ধারণা: মেসেজে কোডের বৈধতার সময় উল্লেখ থাকলে ব্যবহারকারীরা বুঝতে পারবেন কতক্ষণ সেটি ব্যবহার করা যাবে।
৪. গোপনীয়তা বাড়তে পারে: মেসেজের প্রিভিউতে OTP লুকোনোর ব্যবস্থা চালু হলে ফোনের লক স্ক্রিনে থাকা অবস্থায় অন্য কেউ সহজে কোডটি দেখে ফেলতে পারবেন না।
কী কী অসুবিধা?
১. ভুয়ো মেসেজের ঝুঁকি: প্রতারকেরা একই ধরনের মেসেজের কাঠামো নকল করতে পারে।
২. OTP বুঝতে অসুবিধা: মেসেজের প্রিভিউতে কোড দেখা না গেলে ব্যবহারকারীকে প্রতিবার মেসেজ খুলতে হতে পারে। কারও কারও কাছে এতে সামান্য অসুবিধা তৈরি হতে পারে।
৩. সব প্ল্যাটফর্মে একই নিয়ম কার্যকর করা কঠিন: বিভিন্ন সংস্থা SMS-এর পাশাপাশি WhatsApp বা অন্য মাধ্যমেও OTP পাঠায়। সব ক্ষেত্রে একই নিয়ম কার্যকর নাও হতে পারে।
৪. প্রতারণা পুরোপুরি বন্ধ: ভুয়ো ফোনকল, ফিশিং লিঙ্ক কিংবা ব্যবহারকারীকে ভুল বুঝিয়ে OTP হাতিয়ে নেওয়ার মতো প্রতারণা এই নিয়মে সম্পূর্ণ বন্ধ হবে না।
সাধারণ মানুষের কী করা উচিত?
OTP মেসেজের ধরন বদলালেও সতর্ক থাকা জরুরি। ব্যাঙ্ক বা অন্য কোনও সংস্থার পরিচয় দিয়ে কেউ ফোন করে OTP চাইলে তা জানাবেন না। সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করবেন না এবং কোনও মেসেজ নিয়ে সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সরকারি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যাচাই করুন।
