পারিবারিক কলহের জের ধরে ১৬ বছর আগে স্বামী হেলাল উদ্দিনকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১১ এর বিচারক নিষ্কৃতি হাগিদক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে তাকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ বলেন, ‘দণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।’
হোসনে আরা বেগম নগরের কোতোয়ালি থানাধীন লাভলেইন ঝাউতলা এলাকায় স্বামীসহ বসবাস করতেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৯ মে রাত ১টার দিকে নগরের এনায়েত বাজারের বাটালী রোড এলাকায় জাফর সওদাগরের কলোনিতে নিজেদের ভাড়া বাসায় হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমের পারিবারিক কলহ হয়। একপর্যায়ে হোসনে আরা স্বামীর মাথায় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে হেলাল উদ্দিনের মৃত্যু হয়। এরপর ঘরের বাইরে তালা লাগিয়ে আত্মগোপনে যান তার স্ত্রী।
ওই দিন দুপুরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ বাসা থেকে হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে। তার মুখ, মাথা ও ডান পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাহাবুদ্দিন খান বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০১০ সালের ১৪ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আট সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত হোসনে আরা বেগমের বিরুদ্ধে স্বামী হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
