সাতক্ষীরা শহরের বস্তিতে বসবাসরত জলবায়ু বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর ৭৪.৯ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো এসব মানুষের বড় অংশ এখনো পর্যাপ্ত খাবার, নিরাপদ আবাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরার রয়েল গ্লাস কনভেনশন হলে ‘সহনশীলতার সূচনা নিজের ঘর থেকেই’ শীর্ষক এক বহুপক্ষীয় সংলাপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি), পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) এবং উন্নয়ন সংগঠন ‘স্বদেশ’ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
সংলাপের আগে দুর্যোগ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি সাতক্ষীরা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অনুষ্ঠানস্থলে এসে শেষ হয়।
বক্তারা বলেন, সিডর ও আইলার মতো ভয়াবহ দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে বহু মানুষ সাতক্ষীরা শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের অনেকের খাদ্য, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের সংকট কাটেনি।
তাঁদের মতে, বাস্তুচ্যুতির পর খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা শুধু একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিরোধযোগ্য ব্যর্থতার প্রতিফলন।
সংলাপে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, বস্তিতে বসবাসকারী যাঁরা এখনো বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাননি, তাঁদের তালিকা দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পৌর এলাকার বাইরের প্রকৃত ভূমিহীনরা আবেদন করলে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে পরিবারপ্রতি সর্বোচ্চ দুই একর পর্যন্ত কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন সংগঠন ‘স্বদেশ’-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত। সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন গবেষক ও সিইপিআরের নির্বাহী পরিচালক গৌরাঙ্গ নন্দী।
প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা ‘অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০২১’-এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের সংকট মোকাবিলায় খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি নিরাপদ আবাসন, স্থায়ী কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কর্মসূচি জোরদারের আহ্বান জানান।
The post সাতক্ষীরায় জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের ৭৪.৯ শতাংশ তীব্র খাদ্যসংকটে appeared first on ভোরের চেতনা.
