জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া এই জাতির ভাগ্যের কোনো প্রকৃত পরিবর্তন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত ১৭ বছরে সবচেয়ে বেশি জুলুম-নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া বটতলাস্থ নেহাল গ্রীনপার্ক কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “জামায়াত জুলাই সনদ বিশ্বাস করে না—এমন কথা অবাস্তব ও ভিত্তিহীন। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি যে দাবি করেছেন, তা সত্যের অপলাপ ও আধাসত্য মাত্র।”
রাজনৈতিক ইতিহাস ও নির্যাতনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, বিভিন্ন মেয়াদে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের শাসনকালে জামায়াত ও শিবিরের ৪৬ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামী নিঃশর্তভাবে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছিল। জামায়াতের সেই ঐতিহাসিক সমর্থন না থাকলে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।” একইসঙ্গে ১৯৯৬ সালের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোনো জোট হয়নি; বরং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গণদাবিতে পৃথকভাবে কিন্তু একইসূত্রে আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল।
সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, গত আট মাসে সীমান্ত এলাকায় অন্তত ১৩টি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অথচ এসব সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো প্রতিবাদী তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
তিনি আরও হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে যারা প্রতিশ্রুতিভঙ্গ ও প্রতারণা করেছে, সাধারণ জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তার উপযুক্ত জবাব দেবে। জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বহু গুণে সুশাসন উপহার দেবে। আগামী দিনে এ দেশের রাজনৈতিক চালিকাশক্তিতে জামায়াতই নেতৃত্ব দেবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই রুকন সম্মেলনে জেলা ও স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ নেতাবৃন্দ ও সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
জেএইচআর
