Published on
:
2 min read
দুর্গাপুজোয় (Durga Puja 2026) কলকাতার আলো ঝলমলে মণ্ডপ আর জনসমুদ্র থেকে একটু দূরে থাকতে চান? গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন টাকির পথে। ইছামতীর পাড়ে ঘোরাঘুরি, নদীর হাওয়া আর প্রকৃতির সান্নিধ্য পাবেন এখানে। দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের ভিড়। তাই অষ্টমীতে আসুন টাকি। আর যাওয়ার পথে ঘুরে ঢুঁ মারুন ধান্যকুড়িয়ায়। ইতিহাস, স্থাপত্য আর সাবেকি দুর্গাপুজোর স্বাদ একসঙ্গে পাবেন ধান্যকুড়িয়ায়।
টাকি রোডের উপর অবস্থিত ধান্যকুড়িয়া এক সময় ছিল ব্যবসায়ী ও জমিদার পরিবারের জনপদ। এখানকার গায়েন, বল্লভ ও সাউ পরিবারের প্রাসাদোপম অট্টালিকাগুলি আজও বহন করে চলেছে ব্রিটিশ বাংলার ঐতিহ্য। পাটের ব্যবসায় বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠা মহেন্দ্রনাথ গায়েন প্রায় দু’শো বছর আগে ইউরোপীয় দুর্গের আদলে তৈরি করিয়েছিলেন গায়েন গার্ডেন।
বাগান, পুকুর, সিংহদরজা এবং নানা ভিক্টোরিয়ান কারুকাজে সাজানো এই অট্টালিকা দেখলে মুগ্ধ হতে হয়। এই বাড়িতে একাধিক সিনেমার শুটিংও হয়েছে। এই গায়েন বাড়ির ঠাকুরদালানে দুর্গাপুজো হয় প্রায় ১৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। একচালার প্রতিমায় সাবেকিয়ানার ছাপ স্পষ্ট। ধান্যকুড়িয়ায় প্রথম গন্তব্য হোক এই গায়েন গার্ডেন।
অন্যদিকে, সাদা রঙের বিশাল বল্লভ বাড়ি ছাদের পুতুলমূর্তি ও কারুকাজ করা স্তম্ভের জন্য পরিচিত। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘পুতুলবাড়ি’ নামেও পরিচিত। সেখানেও যেতে পারেন। কাছেই রয়েছে সাউ পরিবারের বাগানবাড়ি। তার ভগ্নপ্রায় প্রবেশদ্বার আজও অতীতের আভিজাত্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।
ধান্যকুড়িয়ার এই তিন রাজবাড়িতেই নিয়ম মেনে দুর্গাপুজো হয়। জাঁকজমক অনেকটাই কমেছে, কিন্তু পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বর্তমান প্রজন্ম। বছরের অন্য সময়ে প্রবেশের নানা বিধিনিষেধ থাকলেও দুর্গাপুজোর সময় সবার জন্য দরজা খোলা থাকে। ফলে শহরের ভিড় এড়িয়ে সাবেকি বাড়ির পুজো দেখার সুযোগ মিলতে পারেন এই ধান্যকুড়িয়ায়।
একদিনে ঘুরে দেখার জন্য ধান্যকুড়িয়া আদর্শ। তবে থাকতে চাইলে টাকিতে রয়েছে হোটেল ও রিসর্টও রয়েছে। লং ড্রাইভের সঙ্গে ইতিহাসের ছোঁয়া আর সাবেকি পুজোর আমেজ পেতে ঘুরে যান ধান্যকুড়িয়া থেকে।
কী ভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে টাকি রোড ধরে ধান্যকুড়িয়ার দূরত্ব প্রায় ৫০-৫৫ কিলোমিটার। গাড়িতে যেতে সময় লাগতে পারে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। চাইলে প্রথমে টাকি ঘুরে ফেরার পথে ধান্যকুড়িয়ায় ঢুঁ মারতে পারেন। ট্রেনে যেতে হলে শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদ লোকাল ধরে কাঁকড়া মির্জানগর স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে টোটোতে পৌঁছে যাবেন রাজবাড়িগুলিতে।
FAQ
১. ধান্যকুড়িয়া কোথায় অবস্থিত?
উত্তর ২৪ পরগনায়, টাকি রোডের উপর অবস্থিত ধান্যকুড়িয়া।
২. কলকাতা থেকে ধান্যকুড়িয়ার দূরত্ব কত?
কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ৫০–৫৫ কিলোমিটার।
৩. ধান্যকুড়িয়ায় কী কী দেখবেন?
গায়েন গার্ডেন, বল্লভ বাড়ি ও সাউ পরিবারের বাগানবাড়ি ঘুরে দেখতে পারেন।
৪. ধান্যকুড়িয়ায় কি দুর্গাপুজো হয়?
হ্যাঁ, গায়েন, বল্লভ ও সাউ পরিবারের বাড়িতে ঐতিহ্য মেনে দুর্গাপুজো হয়।
৫. ট্রেনে কী ভাবে ধান্যকুড়িয়া যাবেন?
শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদ লোকালে কাঁকড়া মির্জানগর স্টেশনে নেমে টোটোতে পৌঁছতে পারেন।
