আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) বৈজ্ঞানিক গবেষণার সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় রসদ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে স্পেসএক্সের ড্রাগন মহাকাশযান। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ৩৫তম বাণিজ্যিক সরবরাহ মিশনের আওতায় মহাকাশযানটি ৬ হাজার ৩০০ পাউন্ডের বেশি মালামাল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশনের স্পেস লঞ্চ কমপ্লেক্স-৪০ থেকে ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে ড্রাগন উৎক্ষেপণ করা হয়।
নাসা জানিয়েছে, মহাকাশযানটি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের হারমনি মডিউলে সংযুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
এবারের মিশনে মহাকাশ স্টেশনের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে পাঠানো হয়েছে সর্বশেষ দুটি উন্নত সৌর প্যানেল। এগুলো স্থাপনের মাধ্যমে স্টেশনের বিদ্যুৎব্যবস্থার সম্প্রসারণ সম্পন্ন হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মহাকাশচারীরা মহাকাশে হাঁটার মাধ্যমে প্যানেলগুলো স্থাপন করবেন।
ড্রাগনে পাঠানো বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম রেটিনা তৈরির প্রযুক্তি, থ্রিডি হৃদ্যন্ত্রের টিস্যু মডেল এবং বিশেষ ধরনের কাচ তৈরির গবেষণা উপকরণ।
এ ছাড়া আলঝেইমার, পারকিনসন ও মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো স্নায়বিক রোগের সম্ভাব্য চিকিৎসা উদ্ভাবনে গবেষণার জন্য মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র টিস্যু মডেল পাঠানো হয়েছে।
নাসার মতে, এসব গবেষণা পৃথিবীতে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মহাকাশযানটি নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করার কথা রয়েছে। এরপর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার নমুনা ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে অবতরণ করবে।
তথ্যসূত্র: মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। নাসার ওয়েবসাইট
