রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, সাধারণ নাগরিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় রাজনীতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন তিনি।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইশরাকের ফেসবুক পেজে অভিযানের ভিডিও প্রকাশের পর তা ছড়িয়ে পড়ে। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর রোববার দুপুরে নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে বিবৃতি দেন প্রতিমন্ত্রী।
বিবৃতিতে ইশরাক জানান, ঢাকা-৬ আসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ পাচ্ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এলাকাটি মাদক কারবারিদের অন্যতম প্রধান চলাচলকেন্দ্রে পরিণত হয় বলে তাঁর দাবি।
গত জুন মাসে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন। জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছাকাছি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারি পত্র দেন। তবে ওই উদ্যোগ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিযানে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে তিনি জানতে পারেন, মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করতে করতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে।
ইশরাকের ভাষ্য, ‘এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নস্যাৎ হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী কেবলই আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।’
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর গেন্ডারিয়া থানার পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুলিশের সহায়তায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এ সময় চার-পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয়। ছয়জন মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইশরাক অভিযোগ করেন, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যম খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাঁর দাবি, এসব প্রতিবেদনে অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে না। এতে তাঁর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলেও বিবৃতিতে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সানা/আপ্র/১৮/১০/২০২৬
