মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে হারিকেন ‘সাইমন’ ও ক্রান্তীয় ঝড় ‘র্যাচেল’র আঘাতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে এবং বহু বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।
হারিকেন সাইমনের কারণে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়েরেরো রাজ্যের রাজধানী চিলপানসিঙ্গোতে দেয়াল ধসে ৭১ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যটির গভর্নর এভলিন সালগাদো এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঝড়ের প্রভাবে রাজ্যের উপকূলীয় শহরগুলোতে অবকাঠামো ও বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর আকাপুলকোও রয়েছে।
অন্যদিকে, বাজা ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের এনসেনাদা শহরের উপকণ্ঠে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ক্রান্তীয় ঝড় র্যাচেলের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যটির কৌঁসুলির কার্যালয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ঘটনায় আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী হেলিকপ্টারের সাহায্যে ৩২ জনকে উদ্ধার করেছে। রাজ্যটির গভর্নর মারিনা দেল পিলার জানিয়েছেন, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ৫০ জনের বেশি মানুষকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হারিকেন সাইমন মেক্সিকোর উপকূলে সরাসরি আছড়ে পড়েনি। পাঁচ মাত্রার সাফির-সিম্পসন স্কেলে দুর্বল হয়ে দ্বিতীয় মাত্রায় নেমে আসার পর এটি উপকূল থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল। তবে বৃষ্টির সতর্কতা বহাল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিভিত্তিক ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন পশ্চিম-মধ্য মেক্সিকোতে সাইমনের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, উপকূলের কয়েকটি এলাকায় এখনো পাঁচ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। এরই মধ্যে মিচোয়াকান ও কোলিমা রাজ্যের নদী ও জলধারার কাছাকাছি কয়েকটি জনপদে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত এল নিনো পরিস্থিতি এ মৌসুমে অঞ্চলটিতে আরও তীব্র হারিকেন সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটানোর পাশাপাশি আবহাওয়ায় অনিয়মিত পরিস্থিতি তৈরি করছে। এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিও এল নিনোর তীব্রতা বাড়িয়ে তুলছে।
সূত্র: গার্ডিয়ান
