শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষ্যে দেশের ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়।
উৎসবকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ১৩১টি ঘটনায় প্রতিরোধমূলক ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ সময় ২৪টি পৃথক ঘটনায় ৪৯ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া, ১৫টি শিশুকে উদ্ধার এবং চুরির ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, দক্ষ জনবল মোতায়েন, তাৎক্ষণিক সাড়াদান এবং পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে আনসার ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
আনসার সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজাকেন্দ্রিক ১৩১টি ঘটনার মধ্যে প্রতিমা ভাঙার চেষ্টা ও ভাঙচুর প্রতিরোধের ২০টি, বিবাদমান সমস্যা সমাধানের ৩৬টি, অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধের দুইটি এবং মাদকসংক্রান্ত ১৩টি ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া, ১৫টি ঘটনায় মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। বিবিধ সমস্যা-সংক্রান্ত আরও নয়টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
আনসারের চার সদস্যের মৃত্যু
নাজমুস সাকিব জানান, পূজার দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঘটনায় আনসার-ভিডিপির চার সদস্য মারা গেছেন। আহত ও অসুস্থ হয়েছেন আরও ১৭ জন সদস্য।
‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ও প্রযুক্তির ব্যবহার
এবারের দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করেছে বাহিনীটি। অ্যাপটির মাধ্যমে ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী আনসার-ভিডিপি সদস্য দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত পূজামণ্ডপে কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য জানানোর ব্যবস্থা ছিল। এর মাধ্যমে পূজা উদযাপন কমিটি, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া সদস্য নির্বাচন ও মোতায়েনের ক্ষেত্রে AVMIS এবং STDMS সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। বাহিনীর দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, পরিকল্পিত জনবল মোতায়েন এবং মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক সাড়াদানের সমন্বয়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা কার্যক্রম ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত রাখা হয়। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা এবং পূজা-পরবর্তী নিরাপত্তার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটি, সাধারণ মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
জেইউ/এসএএস
