আজকাল ওয়েবডেস্ক: উৎসবের আলোয় যখন সেজে উঠছে গোটা বাংলা, ঠিক সেই সময়েই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর মিলল কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া ব্যারাকপুর এলাকায়।
কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ব্যারাকপুর আমবাগান চত্বরে বেপরোয়া গতির জেরে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক দম্পতি-সহ তিনজনের। শনিবার ভোরে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোরে সোদপুর থেকে নৈহাটির দিকে যাচ্ছিল একটি হুন্ডাই ভার্না এবং একটি মাহিন্দ্রা থর। অভিযোগ, গাড়ি দু’টি প্রবল গতিতে ছুটছিল।
কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ব্যারাকপুর আমবাগান চত্বরে পৌঁছতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পরপর তিন-চারটি গাড়িতে ধাক্কা মারে দুটি গাড়ি। শুধু তাই নয়, সংঘর্ষের জেরে একটি দাঁড়িয়ে থাকা বাইকও পিষে যায় গাড়ির ধাক্কায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গাড়িগুলি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। শুরু হয় উদ্ধারকাজ।
তবে ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গাড়িতে থাকা অরিন্দম গোস্বামী (৩৯) এবং সঙ্গীতা গুহ (৩৩)-র। সম্পর্কে তাঁরা দম্পতি বলে জানা গিয়েছে। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান বিশাল শর্মা নামে এক বাইক আরোহীও।
এই দুর্ঘটনার জেরে ফের সামনে এসেছে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, রাত গভীর হলে এবং ভোরের দিকে তুলনামূলক ফাঁকা রাস্তায় কিছু গাড়িচালক বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালান।
তাঁদের অভিযোগ, চওড়া রাস্তার সুযোগ নিয়ে অনেকেই কার্যত রেসের মতো করে গাড়ি ছোটান। যার জেরে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, দিনের বেলায় স্পিড লিমিট পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা কাজ করে এবং নিয়ম ভাঙলে জরিমানাও করা হয়।
কিন্তু রাতের ফাঁকা রাস্তায় কিছু চালক নিয়ম ভাঙাকে প্রায় অভ্যাসে পরিণত করেছেন। তবে শুধু জরিমানা নয়, রাতের পাশাপাশি ভোরের দিকে নিয়মিত নজরদারি, অতিরিক্ত গতিতে চলা গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা ফের সামনে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত দু’তিন দিনের মধ্যে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে রাতের অন্ধকারে বেপরোয়া গতির জেরে মোট চারজনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=OsjyrjXCkRVx0zUN
পরপর এমন দুর্ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে পুজোর সময় রাস্তায় যানবাহনের চাপ বাড়ার পাশাপাশি মানুষের যাতায়াতও বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে গতি নিয়ন্ত্রণের দিকে জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
