সিলেটে অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
নিহত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক শাহাব উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
-->সিলেটের কানাইঘাটে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সিরিয়াল নিয়ে বিরোধের জেরে শাহাব উদ্দিন (৩২) নামে এক চালককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতনপুঞ্জি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাহাব উদ্দিন সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে কানাইঘাটের সুরইঘাট এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী নেওয়ার সিরিয়াল নিয়ে দুই চালকের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে শাহাব উদ্দিনের ওপর হামলা হয়। এ সময় তাকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।’
নাঈম/
আরও পড়ুন
হাতিয়ায় স্ত্রীকে খুন, স্বামী পলাতক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->নোয়াখালীর হাতিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ির পাশের একটি গাছে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. কাশেমের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা মাইজচরা এলাকা থেকে রোকসানা (২৫) নামে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন।
নিহত রোকসানা সোনাদিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চরচেঙ্গা মাইজচরা এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম মো. কাশেম। তাদের দাম্পত্য জীবনের প্রায় সাত বছর পার হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রোকসানা ও কাশেমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া-বিবাদ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিবাগত রাতে তাদের মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। এ সময় কাশেম তার স্ত্রীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রোকসানাকে বাড়ির পাশের একটি শুকনো গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে কাশেম পালিয়ে যান।
শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে স্থানীয় লোকজন রোকসানাকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে হাতিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে রোকসানার স্বামী মো. কাশেম পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মেহেরাজ ও মিষ্টু বলেন, ‘এর আগেও রড দিয়ে আঘাত করার কারণে রোকসানার চার মাসের গর্ভের সন্তান মারা যায়। আমাদের এলাকায় এভাবে চারজন গৃহবধূকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানি। পরে টাকা দিয়ে বিষয়গুলো মীমাংসা করা হয়। এসব ঘটনায় কাউকে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গেলে হয়তো এমন ঘটনা আর ঘটত না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা চলছে।’
হানিফ উদ্দিন/আজহার/
আরও পড়ুন
সাতকানিয়ায় বন্ধুদের হাতে বন্ধু খুন
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
নিহত রিয়াজ। ছবি:সংগৃহীত
-->চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের মারধরে মো. রিয়াজ (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে তিনি বন্ধুদের হাতে মারধরের শিকার হন।
নিহত রিয়াজ সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ক্ষিতা মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দিনের ছেলে। এ ছাড়াও তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে নিহত রিয়াজ তার এক বন্ধুর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে গত বৃহস্পতিবার সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের শাহ মজিদিয়া মার্কেটে রিয়াজকে ডেকে নিয়ে রিয়াজের হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ফরহাদ দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহাদাত, জায়েদ, আব্বাস, অনিক ও ফরহাদ গাছের বাটাম দিয়ে রিয়াজকে মারধর করেন। মারধর থেকে বাঁচতে রিয়াজ স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক রতন আচার্যের ফার্মেসিতে আশ্রয় নিলেও রক্ষা পাননি। পরে অভিযুক্তরা তাকে নাছিরের দোকানের সামনে ফেলে রেখে চলে যান।
পরে আহত রিয়াজকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তার বাবাকে খবর দেয় পুলিশ। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) খালি না থাকায় তাকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। আর্থিক সংকটের কারণে শুক্রবার বিকেলে তাকে আবার চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রিয়াজের মা রোজিনা আকতার বলেন, শাহাদাত আমার ছেলেকে ডেকে তার দোকানে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে তারা আমার ছেলেকে বেধড়ক মারধর করে। ইতোমধ্যে আমি বাদী হয়ে শাহাদাত, জায়েদ, আব্বাস, অনিক ও ফরহাদের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস ছফুর বলেন, এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। তাদের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এজন্য আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। পুরো ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরিফুল ইসলাম/নাঈম
আরও পড়ুন
শৈলকুপায় ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই খুন
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
নিহত বড় ভাই মুজিবুল। ছবি: খবরের কাগজ
-->ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাই ও তার স্ত্রীর হামলায় বড় ভাই নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম মুজিবুল (৪৫)। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়েছেন তার স্ত্রী নাজমা খাতুন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ছোট ভাই রবিউল পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী মিলি খাতুনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির গাছের সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে বড় ভাই মুজিবুল ও ছোট ভাই রবিউলের ঝগড়া বাধে। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছোট ভাই রবিউল ও তার স্ত্রী মিলি খাতুন লাঠি দিয়ে বড় ভাই মুজিবুল ও তার স্ত্রী নাজমা খাতুনের ওপর হামলা চালায়। এতে দুজনই মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হন। স্বজনরা তাদেরকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি মারা যান।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রবিউল গা ঢাকা দিলেও তার স্ত্রী মিলি খাতুনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে গ্রামবাসী। খবর পেয়ে শৈলকুপা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটক মিলি খাতুনকে থানা হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর মোল্লা জানান, "সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক দ্বন্দ্বে নিহতের ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আলমগীর/নাঈম
আরও পড়ুন
বাকলিয়ায় চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চুরির চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ফুফুর করা মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমনের বয়স ২১ বছর।
গ্রেপ্তাররা হলেন- আব্দুর রহমান জিসান (২১), ইয়াছিন আরাফাত (২৩), মো. হাসান (৩৩) ও মো. মিজানুর রহমান (২৭)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি পান-সিগারেটের দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে ইমনকে আটক করা হয়। পরে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কল্পলোক আবাসিক এলাকার ২নং সড়কের মুখে একটি সেতুর নিচে তাকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
খবর পেয়ে ইমনের ফুফু রেহানা বেগম ও তার ছেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
বর্তমানে তার মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
এ ঘটনায় ইমনের ফুফু রেহানা বেগম বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম ঘটনার সত্যতা ও চার আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
আবদুস সাত্তার/অলি/
