The Sangbad · সাধারণ
পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি: সাবেক রাজউক চেয়ারম্যানসহ আটজনের দণ্ড
১৩/১০/২০২৬

পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম রায় ঘোষণা করেন এবং আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।দণ্ডপ্রাপ্ত অপর সাত আসামি হলেন: রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ। রায়ে রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তাকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।বিচারক দুই ধারায় সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই ধারায় ব্যবসায়ী শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকেও ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে অতিরিক্ত এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আট আসামিকেই ওই অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পূর্বে যে সময় কারাগারে অতিবাহিত করেছেন, তা তাদের মূল সাজা থেকে বাদ যাবে এবং দুই ধারায় দেওয়া সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে। এছাড়া পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের সেক্টর-১-এর রোড-৪০৫-এর ১১ ও ১৩ নম্বর প্লটে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দ বাতিলের নির্দেশ দিয়ে প্লট দুটি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলে ২০ কাঠা জমির দুটি প্লট বরাদ্দের অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলাটি করেন।এতে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠার দুটি প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ দিয়ে রাষ্ট্রের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছেন। তদন্ত শেষে দুদক চার্জশিট জমা দিলে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষে মোট নয়জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗