যুদ্ধ আপাতত থিতু হলেও, বাগযুদ্ধে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ফিনিস দ্য জব’ মন্তব্যের পালটা এবার মুখ খুলল ইরান। কড়া সুরে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি জানালেন, ‘আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চাইলে আসুন। আপনাদের স্বাগত জানাতে আমরা তৈরি।” পাশাপাশি কড়া সুরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিনকে নিশানা করেন আরাঘাচি।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ট্রুথ-এ ২৭ অক্টোবর ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। লেখেন, ‘নেতানিয়াহু একজন মহান যোদ্ধা।’ এরপরই ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানকে যথেষ্ট দুর্বল করা হয়েছে, তেহরান যদি নীতি না বদলায় তবে আমেরিকা ও তার মিত্ররা শীঘ্রই নিজেদের কাজ শেষ করবে।’ ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে জয়ী করার আবেদন জানিয়ে আরও লেখা হয়, ‘নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ প্রধানমন্ত্রী হলে আমেরিকাকে একাই এই কাজ করতে হবে, যা আমি করতে চাই না।’ বলার অপেক্ষা রাখে না ‘কাজ শেষ’ বলতে, ইরানের উপর চরম আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানকে যথেষ্ট দুর্বল করা হয়েছে, তেহরান যদি নীতি না বদলায় তবে আমেরিকা ও তার মিত্ররা শীঘ্রই নিজেদের কাজ শেষ করবে।’
ট্রাম্পের এহেন মন্তব্যের পালটা এক্স হ্যান্ডেলে জবাব দেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘাচি। লেখেন, গতবার যখন আপনি কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন, ‘ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে এসেছিল। আবারও ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? বেশ, আসুন। আপনাকে স্বাগত। কিন্তু সাবধান, আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ পড়ে রয়েছে।’ এরপরই নেতানিয়াহুকে তোপ দেগে সুর চড়িয়ে তিনি লেখেন, ‘নিজের গদি ও জেল থেকে বাঁচতেই নেতানিয়াহু আমেরিকাকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এর ফলে ইজরায়েল বা খোদ প্রেসিডেন্টের কী হবে, তা নিয়ে তাঁর ভ্রূক্ষেপ নেই।’
প্রসঙ্গত, ইজরায়েলে দুর্নীতির মামলায় বিচার চলছে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পরমাণু ও সামরিক ঘাঁটিতে আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি হলেও পরমাণু আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে। এরপর থেকে ফের উত্তেজনা বেড়েছে দু’দেশের। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, নভেম্বরে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁর।
