হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছে ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নতুন করে কোনো প্রস্তাব পাঠায়নি তেহরান।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র তার নৌ অবরোধ তুলে নিলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় খুলে দিতে রাজি ইরান। তবে এই খবরকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে অভিহিত করেছে ইরান।
বিজ্ঞাপন
গত ১৮ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন, সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার যে প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে, তা এখনো বহাল রয়েছে। বাগদাদে ইরানি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আরাগচি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আমরা এগোচ্ছি। তারা কিছু মন্তব্য জানিয়েছে, যা আমরা পর্যালোচনা করছি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যদি কোনো আন্তরিকতা থাকত—যদিও তা নেই—তাহলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথ স্পষ্ট হতো।’
চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন ট্রাম্প, সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও
ইরানের অস্বীকৃতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। তবে তিনি নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন। ট্রাম্পের দাবি, যেকোনো চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে হবে।
ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় তিনি সম্ভাব্য নতুন অভিযানের নাম দেন ‘আরেকটি ছোট্ট এপিক ফিউরি’।
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আরেকটি ছোট্ট এপিক ফিউরি অভিযান চালাতে পারি, অথবা তারা (ইরান) সমঝোতায় রাজি হবে।’
ইরান আলোচনায় আগ্রহী কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইরান বুদ্ধিমানের মতো আচরণ করলে আলোচনায় বসতে রাজি হবে। তবে তেহরান এমন সিদ্ধান্ত নেবে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি ইরানের
বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে শনিবার আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিধিবিধান মেনেই ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
আইআরজিসির নৌবাহিনী আরো অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিক দিয়ে চলাচলের সময় দুটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার নৌমাইনে আঘাত পেয়েছে। জাহাজ দুটিতে সম্মিলিতভাবে ৪৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ছিল বলে দাবি করেছে বাহিনীটি। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজগুলো অনুমোদনহীন পথে চলাচলের চেষ্টা করছিল।
এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছে, পারস্য উপসাগরে কোনো মার্কিন সামরিক জাহাজ প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশটির সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে—ওয়াশিংটনের এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীকে অকার্যকর করে দিয়েছে ইরানি বাহিনী।
তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কেবল স্বপ্নই দেখতে হবে যে তাদের সামরিক বাহিনী ও সেনারা আবার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করবে। সেই ইচ্ছা নিয়েই তাদের কবরে যেতে হবে। কোনো পরিস্থিতিতেই, কোনো সময়েই আমরা মার্কিন সামরিক জাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেব না।’
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্পের বারবার করা দাবিকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন এই জেনারেল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, স্থাপনাগুলো যদি সত্যিই ধ্বংস হয়ে থাকে, তাহলে ওয়াশিংটন এখনো কেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও প্রেস টিভি
